ঢাকারবিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

নামাজে হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে নামাজ ভাঙবে

অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ১৭, ২০২২ ৫:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নামাজ মুমিনের শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম ইবাদত। নামাজে তাই সার্বক্ষণিক সুস্থির ও পূর্ণ মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু এরপরও অনেক সময় নানা চিন্তাভাবনা চলে আসে। আগের-পরের কত কথা যে মনে পড়ে তার হিসাব নেই। ফলে কিছু কিছু মুসল্লি মাঝেমধ্যে নামাজের রাকাত সংখ্যাও ভুলে বসেন।

নামাজে মনোযোগহীনতার রোগটি নিন্দনীয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) এটিকে ‘শয়তানের ছিনতাই’ বলেছেন। মনোযোগ ও একাগ্রতা ধরে রাখতে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তাকে তুমি দেখতে পাচ্ছো। আর যদি দেখতে না পাও, তবে তিনি যেন তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।’ -(বুখারি, হাদিস: ৫০; মুসলিম, হাদিস: ৮)

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে সুন্দরভাবে অজু করে, অতঃপর মন ও শরীর একত্র করে (একাগ্রতার সঙ্গে) দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, (অন্য বর্ণনায় এসেছে, যেই নামাজে ওয়াসওয়াসা স্থান পায় না) তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (নাসায়ি, হাদিস: ১৫১; বুখারি, হাদিস: ১৯৩৪)

নামাজে অমনোযোগী হওয়া কাম্য নয়। কারণ, এতে নামাজের পরিপূর্ণ হক আদায় হয় না। আর নামাজে উদাসীনদের জন্য পরকালে শাস্তি রয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর দুর্ভোগ ওই সব মুসল্লির জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’ -(সুরা: মাউন, আয়াত: ৪-৫)

তাই নামাজে মনোযোগী হতে হবে এর পাশাপাশি নামাজ ভঙের যে কারণগুলো আছে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় নামাজ আদায় হবে না।

সাধারণভাবে ফুকাহায়ে কেরাম নামাজ ভঙের কারণ হিসেবে ১৯টি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন। এর একটি হলো, নামাজরত অবস্থায় কারো হাঁচির (উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা) উত্তর দেওয়া। এর দ্বারা নামাজ ভেঙে যায়।-(ফাতাওয়ায়ে শামী ২/১১৭)

কিন্তু কোনও ব্যক্তি যদি নামাজ পড়ার সময় হাঁচি দেয়। এবং ভুলে অভ্যাসবশত হাঁচির পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে ফেলে। তাহলে- নামাজে হাঁচির পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার কারণে কি নামাজ নষ্ট হয়ে যায়?

এ বিষয়ে আলেমরা বলেন, নামাজে হাঁচি এলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ না বলাই নিয়ম। তবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ যেহেতু জিকিরের শব্দ, তাই তা বলে ফেললেও নামাজ নষ্ট হবে না। সুতরাং কেউ ভুলে অভ্যাসবশত হাঁচির পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে ফেলে নামাজ হয়ে যাবে। এই নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ১/১২০; হালবাতুল মুজাল্লী: ২/৩৯৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ২/৩১৭; হাশিয়াতুত তাহতাবি আলালমারাকি : পৃ. ১৭৮)