ঢাকারবিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

রাসুলের রক্ত পান করেন যে সাহাবি

ধর্ম ও জীবন
জুলাই ২৩, ২০২২ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সাহাবায়ে কিরামের মনে-প্রাণে, বিশ্বাস ও চেতনায়, রক্তে-মাংসে রাসুলের ভালোবাসায় ছিল একাকার। সাহাবাদের সেই রাসুলপ্রেমের হৃদয়কাড়া বিভিন্ন ঘটনা সিরাতের কিতাবজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

তেমনি রাসুলপ্রেমের বিস্ময়কর এক ঘটনা সিরাতের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) (শিঙ্গা লাগানোর পর) আমাকে কিছু রক্ত দিলেন, আর তা মানুষের দৃষ্টির বাইরে ফেলে আসতে বললেন।

আমি একটু আড়ালে গিয়ে তা পান করে ফেললাম। আমি ফিরে এলে নবী (সা.) বলেন, তুমি রক্ত কী করেছ? আমি বললাম, আমি সেগুলো এমন স্থানে গোপন করে ফেলেছি, যা কেউ দেখতে পাবে না। তিনি (সা.) বললেন, মনে হয় তুমি তা পান করেছ। আমি ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলে রাসুল (সা.) বলেন, তোমার থেকে লোকেরা আর লোকদের থেকে তুমি কষ্ট পাবে। কথিত আছে, আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের এ শক্তি-সামর্থ্যই ছিল সেই রক্তের অদৃশ্য প্রতিক্রিয়া। (আল-মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন, হাদিস : ৬৩৪৩)

আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) ছিলেন সেই সাহাবি, যখন মুসলমানরা মদিনায় হিজরত করার পর মদিনায় ইহুদিরা প্রচার করতে লাগল, মুসলমানদের জাদু করা হয়েছে, ফলে তারা কোনো সন্তান জন্ম দান করতে পারবে না। কাকতালীয়ভাবে হিজরত-পরবর্তী সময় তখনো কোনো মুসলমান সন্তান জন্মলাভ করেনি। অনেকের কাছেই বিষয়টা নিয়ে একটু ধোঁয়াশা জাগল। সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে জন্মলাভ করে আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের। তিনি ছিলেন আসমা ও জুবায়ের ইবনুল আওয়ামের সন্তান। একদিকে একজন বিখ্যাত সাহাবি আবু বকর (রা.)-এর কন্যা, অন্যদিকে আরেকজন মহানবী (সা.)-এর ফুপাতো ভাই। আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.)-এর জন্ম মদিনার মুসলিমদের জন্য উচ্ছ্বাসে পরিণত হয়। নবী (সা.) নিজেই তাঁর নাম রাখেন আবদুল্লাহ।

উহুদ যুদ্ধে রাসুল (সা.)-এর ডান দিকের নিচের দাঁত ভেঙে যায় এবং তাঁর নিচের ঠোট জখম হয়ে রক্তাক্ত হয়ে যান। সে সময় মালিক ইবনে সিনান (রা.) রাসুল (সা.)-এর মুখের রক্ত চুষে নেন। তখন রাসুল (সা.) এটা লক্ষ করে বললেন, আমার রক্ত যার রক্তের সঙ্গে মিশ্রিত হয়, দোজখের আগুন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। (সিরাতে ইবনে হিশাম, ১৮২)

এ ছাড়া সালেম আবু হিন্দ নামক এক গোলাম ছিল। শিঙ্গা লাগানোর কাজে করতেন। তিনি একদিন রাসুল (সা.)-এর শিঙ্গা লাগানোর পর তাঁর অগোচরে রক্ত পান করে ফেলেন। (আত-তালখিসুল হাবির, ১/৪২)

রক্ত পান করার হুকুম : সাধারণত রক্ত পান করা হারাম, যা আল্লাহ তাআলা কোরআনে কারিমে ঘোষণা করেছেন। ‘তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত, সেই পশু যাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারিত হয়েছে। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩)

কিন্তু প্রিয় নবী (সা.)-এর রক্ত মোবারক পবিত্র। তাই এ ক্ষেত্রে হারামের বিধান প্রযোজ্য ছিল না।