ঢাকামঙ্গলবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৫ মাস পর ৪টাকা দিয়ে জানা গেল তথ্য দেয়া হবে না!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
অক্টোবর ৫, ২০২৩ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাভারের প্রাণীসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পাঁচ মাস সশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন। যদিও এ তথ্যইটুকু পেতেই জমা দিতে হয়েছে ৪টাকা।

গত (৩০ মে, ২০২৩) তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর ধারা ৪এর বিধান ৮ (১০ ও ৮ (৩) ধারার ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রাণীসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ‘বিএলআরআই’ এর পোল্ট্রি গবেষণা উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পে ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে ‘পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের কত টাকা বরাদ্দ এসেছে এবং তা কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে প্রতিটি ব্যয়ের বিবরণীসহ পেতে চেয়ে আবেদন করেন স্থানীয় এক সাংবাদিক । তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আবেদনের ২০ কার্য দিবসের মধ্যে তথ্য সরবরাহ করার কথা উল্লেখ থাকলেও তা করেননি বিএলআরআই এর পোল্ট্রি গবেষণা উন্নয়ন জোরদার প্রকল্পের, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার। এমনকি ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে তথ্য সরবরাহের বিষয়ে অবগত করার আইনটিও তিনি উপেক্ষা করে ৫ মাস পর গোপনীয়তার দোহাই দিয়েছেন।

বুধবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিএলআরআই’ এর হিসাববিভাগে আবেদনকৃত তথ্যের ফি বাবদ চার টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিয়ে তথ্য কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে প্রাপ্তপত্রের মধ্যে কোন তথ্যই পাওয়া যায়নি। তথ্যের জায়গায় জানানো হয় প্রকল্পের কাজগুলো এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি দাপ্তরিকভাবে গোপনীয় । এ সকল তথ্য আবেদনকারী প্রার্থী কি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবেন তা সুনির্দুষ্ট নয়। প্রকল্পটি চলমান থাকায় দাপ্তরিক খাত ওয়ারি ব্যয়, অডিট রিপোর্ট তথ্য সরবরাহার করার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রকল্প সমাপনান্তে প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) এ বর্ণিত বিষয়গুলো অনুমোদনের প্রেক্ষিতে প্রদান করা যেতে পারে।

তথ্য না দেওয়ার বিষয়ে বিএলআরআই এর পোল্ট্রি গবেষণা উন্নয়ন জোরদার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সাজেদুল করিম সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহাপরিচালকের নির্দেশনা আছে কোন একটা গবেষণা চলমান থাকলে সেই বিষয়টি পাবলিকলি ডিসক্লোউজ করার মতো না হলে এটা দেওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে বিএলআর আইয়ের মহাপরিচালক এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, তথ্য দিলে দুর্নীতি ফাঁস হয়ে যাবে এমন একটা ভয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তার মনে। যে তথ্য চাওয়া হয়েছে সেখানে গোপনীয়তার যে দোহাই দেয়া হয়েছে সেটি ১০ কর্মকর্তা দিবসের মধ্যে অবগত করা যেত আবেদনকারীকে। দীর্ঘ একটা সময় নেয়ার কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, ধৈর্য্য হারানোর চেষ্টা হিসেবে এ পথ বেছে নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবেদন পরবর্তী যথাসময়ে আপিল, আপিলে সাড়া না পেলে অভিযোগ করা।