উজানে ঢল ও টানা দুই দিনে বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার আশঙ্কা করছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ। শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, পুনর্ভবা, টাঙন, ইছামতি, যমুনা ও যমুনেশ্বরী নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা নদীর পানি সমতল বিপৎসীমা অতিক্রম করে এসব জেলার সংশ্লিষ্ট চরাঞ্চল এবং কতিপয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
একই সঙ্গে বিগত কয়েকদিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং মৌসুমি লঘুচাপজনিত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর জেলার নদীসমূহেরও পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে, আজ শনিবার সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তায় পানি বৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে নদ-নদী ভাঙন। গত দু-দিন ধরে প্রচুর বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে। কখনো হালকা, কখনো মাঝারি, কখনো আবার ভারী বৃষ্টি । এতে জনসাধারণের মাঝে যেমন গরম থেকে মুক্তি মিলেছে, তেমনি খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ কাজে যেতে না পেরে পড়েছে চরম বিপাকে।
প্রতিদিনের বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে তিস্তাসহ সব নদ-নদীর পানির পাশাপাশি বিলের পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত আছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সেইসঙ্গে ফসলি জমিতে পানি ওঠায় নিমজ্জিত আগাম শীতকালীন শাকসবজি ও বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল। লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর, গোকুন্ডা, আদিতমারি উপজেলার মহিষখোসা ইউনিয়ন, হাতীবান্ধা উপজেলার চর গড্ডিমারী এলাকার মানুষ তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় পানি প্রবেশ করে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখার উপ-প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদীন বলেন, তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ গেট খোলা রাখা হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।
বন্যাজনিত সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জোনভুক্ত সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
কমেন্ট বক্স