যুদ্ধবিধ্বস্ত জাবালিয়া থেকে পলায়নরত কয়েকশ ফিলিস্তিনির পোশাক খুলতে বাধ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী। ছবিতে দেখা যায়, যাদের বেশির ভাগই পুরুষ। অনেকে অর্ধনগ্ন। অনেকে বয়স্ক, অনেকে আবার আহত। খবর-সিএনএন
খবরে বলা হয়েছে, জাবালিয়া শরণার্থীশিবির ছেড়ে পালানোর সময় ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ধরা পড়েন ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি। এরপর তাদের অর্ধনগ্ন করে কয়েক ঘণ্টা তীব্র শীতের মধ্যে বসিয়ে রাখা হয়। এ সময় সবার চেহারায় ফুটে উঠছিল অসহায়ত্ব।
সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পরিচালিত স্থল অভিযানের কারণে জাবালিয়ার বাসিন্দাদের সরে যেতে বাধ্য করা হয়। ফলে শিবিরের লোকজন এলাকাটি ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
সিএনএন ছবিতে থাকা পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলেছে। মুহাম্মাদ খালাফ নামে একজন বলেন, তার স্ত্রী ও ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে নিরাপদ করিডর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন; কিন্তু ইসরায়েলি সেনারা তাদের আটকে দেন।
খালাফ ফোনে সিএনএনকে বলেন, বেলা ১১টায়। নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশু—আমরা সবাই এক জায়গায় জড়ো হয়েছিলাম। এর পাঁচ ঘণ্টা পর বিকেল চারটায় তারা নারী ও শিশুদের এগিয়ে যেতে বলে এবং আমাদের ব্যাগ ও জিনিসপত্র নিয়ে যায়। পরে নারী ও শিশুদের চলে যাওয়ার অনুমতি দেয়।’
খালাফ বলেন, ‘তারা চলে যাওয়ার পর আমাদের (পুরুষ) অন্তর্বাস ছাড়া গায়ের সব জামাকাপড় খুলে ফেলতে নির্দেশ দেয়। আমরা সেটাই করি। কনকনে ঠান্ডার মধ্যে আমরা এ অবস্থায় আরও কয়েক ঘণ্টা বসে ছিলাম। এ সময় তারা আমাদের নাম ধরে উপহাস করছিল, ছবি তুলছিল।’
মোহাম্মাদ আবু ওয়ার্দ বলেন, তার অন্তর্বাস খুলে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ অবস্থায় তাকে আট ঘণ্টা মেয়ের পাশে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। স্ত্রী ও অন্য সন্তানেরা ভোরে এলাকা ছেড়ে গাজা সিটিতে চলে যেতে সক্ষম হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সরে যেতে বারবার নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি জাবালিয়ার ভূখণ্ডে ওপর থেকে প্রচারপত্র ফেলা হচ্ছিল। সেখানে বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিকভাবে সরে যেতে সতর্ক করা হচ্ছিল। এর আগে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি সিএনএনকে বলেছিলেন, নির্দেশ মেনে তারা চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়।
কমেন্ট বক্স