ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কনফারেন্স রুমে খেলা দেখছিলেন দুই সহকারী কমিশনার, ভিডিও করায় সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ দিন আগে
কনফারেন্স রুমে খেলা দেখছিলেন দুই সহকারী কমিশনার, ভিডিও করায় সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ
সাভার উপজেলা কনফারেন্স রুমে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের খেলা দেখছিলেন সাভারের দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি), কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও তাঁদের স্বজনরা। ওই দৃশ্যের ভিডিও ফুটেজ ধারণ এবং কনফারেন্স রুমে খেলা দেখা নিয়ে প্রশ্ন করায় এক সাংবাদিককে মারধর এবং তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মারধরের শিকার ঢাকা টুডের সাংবাদিক মো. দিদারুল ইসলাম সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

দিদারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, পেশাগত কারণে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে সাভার সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল আমিনকে ফোন দিই। তিনি আমাকে উপজেলায় যেতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমার ক্যামেরাম্যান মোজাহারকে নিয়ে উপজেলায় যাই। উপজেলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখি, সাভার সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল আমিন, আমিনবাজারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন, অন্যান্য স্টাফ ও কয়েকজন বহিরাগতকে নিয়ে কনফারেন্স রুমে খেলা দেখছেন।

তিনি বলেন, ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল আমিনকে প্রশ্ন করি, সরকারি এসি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রাতে খেলা দেখার আয়োজন কি আইনের পরিপন্থী নয়?

দিদারুলের অভিযোগ, এ প্রশ্ন করার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাঁর হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেন এবং অন্যরা তাঁর ক্যামেরাম্যানের কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে মেমোরি কার্ড খুলে নেয়। পরে সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সামনে তাঁকে বেদম মারধর করা হয়। দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে মোবাইল কোর্টে দণ্ড দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একটি মুচলেকা নেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।

বিষয়টি জানতে চাইলে সাভার সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হেমায়েতপুর এলাকায় অবস্থিত আল-আকসা নামের একটি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্টাফ উজ্জ্বল মিয়াকে আটক করে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাঁকে ২০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তাঁকে ফোন দেন। পরে ওই কারখানার লোকজনকে নিয়ে তাঁর কাছে আসেন। তিনি ধারণা করেছিলেন, তাঁরা জরিমানার টাকা নিয়ে আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে এসেছেন। তাই খেলা দেখা বাদ দিয়ে বাইরে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দাবি, সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম ওই কারখানার পক্ষে তদবির করে জরিমানা কমানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি জানান, জরিমানা হয়ে যাওয়ার পর আর কিছু করার সুযোগ নেই। এরপর সাংবাদিক বাইরে থেকে কনফারেন্স রুমে খেলা দেখার ভিডিও ধারণ করেন এবং কক্ষে প্রবেশ করে সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে খেলা দেখার বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাঁকে শান্ত হতে বলি। কিন্তু তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। মনে হচ্ছিল তিনি মদ্যপ অবস্থায় কথা বলছেন। তখন তাঁকে বলি, আপনি একটি অবৈধ কারখানার পক্ষে তদবির করতে এসেছেন। আপনাকে আটক করা হলো। পরে সাংবাদিকদের অনুরোধে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁকে মারধর করা হয়নি। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই তিনি মারধরের অভিযোগ তুলেছেন।’

সরকারি কনফারেন্স রুমে বিদ্যুৎ ও এসি ব্যবহার করে রাতে খেলা দেখার আয়োজন আইনের ব্যত্যয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলাই ভালো হবে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পরে বিষয়টি শুনেছি। ওই সাংবাদিক মোবাইল কোর্টের জরিমানা কমানোর তদবিরে এসেছিলেন। কিন্তু মোবাইল কোর্টে জরিমানা কিংবা দণ্ড হয়ে গেলে আর কিছু করার থাকে না। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি বলার পর তিনি খেলা দেখার ভিডিও ধারণ করেন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।’

ইউএনও বলেন, সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছেন। সেখানে মারধরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য, ‘খেলা দেখার সময় ওই সাংবাদিকের সেখানে এসে এভাবে আচরণ করা উচিত হয়নি।’


কমেন্ট বক্স