বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাভারে এক স্কুলছাত্র গুলিতে নিহত হবার ঘটনায় সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আশুলিয়ার চিত্রশাইল গ্রামের সাহিদ হাসান মিঠু বাদী হয়ে শুক্রবার গভীর রাতে আশুলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
গত ৫ আগষ্ট ছাত্র –জনতার গণ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারে পতনের পর এটাই দলটির নেতাকর্মিদের বিরুদ্ধে সাভারে প্রথম মামলা।
মামলার প্রধান আসামী করা হয়েছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা -১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সদ্য সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদসহ শীর্ষ নেতাদের।
২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তিনি।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ।
গত ৫ আগষ্ট সরকার পতনের এক দফা দাবী আদায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘লং মার্চ টু ঢাকা’কর্মসূচীতে যোগ দিতে গিয়ে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় উপর্যুপরি আঘাত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান স্থানীয় শাহীন স্কুলের দশম শেণির ছাত্র আল-সাবু। আল সাবু আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতলা এলাকার এনাফ নায়েদ জাকিরের ছেলে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ৫ আগষ্ট বাইপাইল এলাকায় আন্দোলন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। এসময় সাইফুল ইসলাম ও তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদসহ আসামিদের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামিরা আল-সাবুরকে ধরে লাঠিপেটার গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে।
মামলায় আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হাসান তুহিন, ইয়ারপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ সুমন ভূঁইয়া, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আলী হায়দার, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক কবির হোসেন সরকার ও পাথালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা পারভেজ দেওয়ানসহ ১১৯ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামী করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কমেন্ট বক্স