ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ , ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সচিবালয় যাচ্ছে শেরেবাংলা নগরে

অনলাইন ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
সচিবালয় যাচ্ছে শেরেবাংলা নগরে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপরতা বেড়েছে। এর আগে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন সচিবালয় নির্মাণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি প্রাথমিক লে-আউট প্রস্তুত করেছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের নকশাও প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণের প্রাথমিক পরিকল্পনায় চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় ধরা হয়েছে।

প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রকল্পটির ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয় নির্মাণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

সরকারের লক্ষ্য, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন, নকশা চূড়ান্তকরণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সের নকশা তৈরির দায়িত্বে রয়েছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কমপ্লেক্সে ভবনগুলোর অবস্থান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় নতুন সচিবালয়ে স্থানান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। তবে সব ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে, বর্তমান সচিবালয় প্রাঙ্গণে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর প্রশাসনিক ও বিচারিক অবকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে প্রাথমিক কার্যক্রম এগোলেও প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন, অর্থায়ন, নকশা এবং নির্মাণের সময়সূচি এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। এসব প্রক্রিয়া সময়মতো সম্পন্ন হলেই সরকারের নির্ধারিত সময়সীমায় নির্মাণকাজ শুরুর লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।


কমেন্ট বক্স