বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর রেফারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। হোসামকে তিন ম্যাচ এবং জিকোকে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। একই ঘটনায় জাতীয় দলের ম্যানেজার ও হোসামের যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসানকেও তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ইএফএ জানিয়েছে, শাস্তির বিস্তারিত কারণ ও ব্যাখ্যা চেয়ে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে আবেদন করা হয়েছে। আইনি দিক পর্যালোচনা শেষে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
এই নিষেধাজ্ঞার কারণে নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে ম্যাচগুলো এবং মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতির প্রথম ম্যাচে থাকতে পারবেন না হোসাম ও ইব্রাহিম। অন্যদিকে, আগামী জুন পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হবে জিকোকে।
গত ৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় মিসর। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি হারে তারা।
ম্যাচে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিসর। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় জিকোর একটি গোল ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হয়। আক্রমণের আগের পর্যায়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
পরে জিকোর গোলেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে মিসর। তবে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিওনেল মেসির গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার মিসরের হামদি ফাথির জার্সি টেনে ধরেছিলেন বলে দাবি করে মিসর। ওই ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন দলটির খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, অন্যায়ভাবে তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমরা ন্যায্য বিচার পাইনি। মাঠে সম্মান কিংবা ফেয়ার প্লে—কোনোটিই ছিল না।’
তবে ম্যাচের রেফারিংয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ রেফারি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।