ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈঠকেও কাটেনি ভারত-চীনের দূরত্ব

অনলাইন ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
বৈঠকেও কাটেনি ভারত-চীনের দূরত্ব
২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ভারত-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দ্য ডিপ্লোমেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও সীমান্ত বিরোধসহ দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য এখনো অমীমাংসিত। লাদাখ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি।

বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে কোনো যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়নি। চীনের বিবৃতিতে তিব্বত ও তাইওয়ানের প্রসঙ্গ থাকলেও ভারতের বিবৃতিতে তা উল্লেখ করা হয়নি। বেইজিং ভারতকে ‘অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করলেও নয়াদিল্লি একই পরিভাষা ব্যবহারে সতর্ক ছিল। এসব বিষয় দুই দেশের অবস্থানগত পার্থক্য তুলে ধরে।

ভারত-চীন সম্পর্কের এই উদ্যোগকে সাম্প্রতিক ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েন বা ওয়াশিংটনের নীতিগত পরিবর্তনের সরাসরি ফল হিসেবে দেখাও যথাযথ নয় বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাদের মতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করে আসছে।

নয়াদিল্লির জন্য সীমান্তে নতুন করে সংঘাত এড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অগ্রাধিকার। এ কারণেই মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনার পথ খোলা রাখছে ভারত। তবে গালওয়ান সংঘাতের পর থেকে ‘হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড’ সামরিক মহড়াসহ দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের পথও এখনো দীর্ঘ।

সব মিলিয়ে, মোদি-শি বৈঠককে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে স্থায়ী সীমান্ত সমাধান, পারস্পরিক আস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিরোধগুলোর নিষ্পত্তি ছাড়া ভারত-চীন সম্পর্ক ২০২০ সালের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে—এমন প্রত্যাশার পক্ষে এখনো শক্ত ভিত্তি নেই।


কমেন্ট বক্স