নিজের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন এবং ভেপের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে কথা বলে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ই-সিগারেট ব্যবহারের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে নিকোটিনের আসক্তি থেকে দূরে থাকতে ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এই পপতারকা।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজের অভ্যাস ও তার পরিণতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সেলেনা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমাত্রার নিকোটিনযুক্ত ভেপ ব্যবহারের অভ্যাস তাঁর কণ্ঠস্বরের ওপর প্রভাব ফেলেছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সাময়িক স্বস্তি বা অভ্যাসের টানে শুরু করা ভেপিং পরবর্তী সময়ে কতটা কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ভক্তদের উদ্দেশে সেলেনা বলেন, নিকোটিনের আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। তবে যারা এখনো ভেপ ব্যবহার শুরু করেননি, তাঁদের এ অভ্যাস থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। নিজের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বোঝান, এই অভ্যাসের জন্য তাঁকে অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্য দিতে হয়েছে।
সেলেনার এই বক্তব্য ভক্তদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংগীতশিল্পী হিসেবে কণ্ঠস্বর তাঁর কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কণ্ঠের পরিবর্তন নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
এর আগেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন সেলেনা। তিনি লুপাস নামের একটি অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত। এই রোগে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের সুস্থ কোষ ও টিস্যুর ওপর আক্রমণ করতে পারে। রোগের প্রভাব এবং চিকিৎসার কারণে তাঁর দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে।
তবে কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণকে নিশ্চিতভাবে দায়ী করার আগে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি। ভেপের ধোঁয়ায় থাকা রাসায়নিক উপাদান গলা ও শ্বাসতন্ত্রে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। নিকোটিনের আসক্তিও একটি গুরুতর সমস্যা। কিন্তু সেলেনার কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া একে শুধু ভেপিং কিংবা লুপাসের ফল বলা ঠিক হবে না।
সেলেনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তাঁর অভ্যাস নিয়ে সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকে নিজের ভুল স্বীকার করে অন্যদের সতর্ক করার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।
ভেপিংকে অনেকেই প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর বিকল্প মনে করলেও এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। অধিকাংশ ই-সিগারেটে থাকা নিকোটিন দ্রুত নির্ভরশীলতা তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া ভেপের অ্যারোসলের বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। তাই ধূমপান বা ভেপিং শুরু না করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
সেলেনা গোমেজের এই অভিজ্ঞতা আবারও সামনে এনেছে নিকোটিনের আসক্তি নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা। বিশেষ করে তরুণদের জন্য তাঁর বার্তা—কোনো অভ্যাস শুরু করার আগে তার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে জানা জরুরি।