ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যালন ডি’অর: ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে নতুন বিতর্ক

স্পোর্টস ডেস্ক
৩ ঘন্টা আগে
ব্যালন ডি’অর: ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে নতুন বিতর্ক
ব্যালন ডি’অরের ‘বোট’ ভোটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখন মেসির চেয়ে অনেক এগিয়ে। কিন্তু এই ভোট নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। কারণ এখানে টাকা দিয়ে একাধিকবার ভোট দেওয়া যায়। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এই ফল কি সত্যিই ন্যায্য?

‘বোট’ মানে ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’। ফরাসি ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের উদ্যোক্তারা এটি চালু করেছেন। এখানে কোনো খেলোয়াড়ের পুরো ক্যারিয়ার বিচার করা হচ্ছে না। বিচার হচ্ছে তাদের সেরা মৌসুম। শুধু তারাই তালিকায় আছেন, যারা ব্যালন ডি’অর অন্তত দুইবার জিতেছেন।

তালিকায় অনেক বড় নাম আছে। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ব্রাজিলের রোনালদো আছেন। আছেন ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি, মার্কো ফন বাস্তেন, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার ও আলফ্রেদো দি স্তেফানো। ভোটাররা ব্যালন ডি’অর জেতা মৌসুমগুলোর মধ্য থেকে নিজের সেরাটি বেছে নেবেন।

এই ভোটের আসল আলোচনা অবশ্য শুধু তারকাদের লড়াই নিয়ে নয়। আলোচনা ভোট দেওয়ার নিয়ম নিয়ে। প্রতিটি ভোটের জন্য দিতে হয় এক ইউরো। কেউ চাইলে বারবার ভোট দিতে পারেন। শর্ত একটাই, প্রতিবার টাকা দিতে হবে।

আয়োজকেরা বলছেন, এই টাকা একধরনের অনুদান। এর বিনিময়ে ভোটাররা কিছু সুবিধাও পান। তারা বিখ্যাত ছবি নামাতে পারেন। ব্যালন ডি’অর কমিউনিটির সদস্য হতে পারেন। ২০২৭ সালের অনুষ্ঠানের টিকিট লটারিতেও অংশ নিতে পারেন।

কিন্তু নিয়মটি নিয়ে কিছু সমর্থক সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি তুলেছেন। তাদের কথা সোজা। একজন মানুষ টাকা দিলেই নিজের পছন্দের খেলোয়াড়কে অসংখ্যবার ভোট দিতে পারেন। ভোটের সংখ্যায় যখন কোনো সীমা নেই, তখন ফল দেখাতে পারে কার টাকা বেশি। কার সমর্থন বেশি, তা নাও বোঝা যেতে পারে।

এখন রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুম পেয়েছে ৬২ শতাংশ ভোট। মেসির ২০২৩ সালের মৌসুম পেয়েছে ১০ শতাংশ। এই বড় ব্যবধান নিয়ে তুমুল তর্ক চলছে। তবে কতজন ভোটার অংশ নিয়েছেন, তার কোনো বিস্তারিত তথ্য নেই। মোট ভোটের সংখ্যাও জানা নেই। তাই এই হার দেখে বলা যায় না যে রোনালদো মেসির ছয় গুণ সমর্থন পেয়েছেন।

এই ভোট ১৯৮৯ সালের ‘সুপার ব্যালন ডি’অর’ থেকে আলাদা। সে বছর পুরস্কারটি পেয়েছিলেন আলফ্রেদো দি স্তেফানো। তখন ভোট দিয়েছিলেন পাঠকেরা, আগের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীরা ও বিশেষজ্ঞ পরিষদ। এবার টাকা দিয়ে বহু ভোট দেওয়ার সুযোগ আছে। তাই ফলের ন্যায্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

প্যারিস সময় ২৭ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে ভোট শেষ হবে। ফল জানানো হবে ২৮ অক্টোবর। 


কমেন্ট বক্স