ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বিষাদের পাহাড় নিয়ে বাড়ি ফিরলেন সবাই

বাংলালাইভ ডেস্ক
নভেম্বর ১৩, ২০১৯ ১২:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক । বাংলালাইভ২৪.কম

কেউ যাচ্ছিলেন কাজে, কেউ ঘুরতে আবার কেউ ফিরছিলেন আপনজনদের কাছে। কিন্তু কারোরই কোথাও যাওয়া হলো না। বিষাদের পাহাড় নিয়ে তারা এখন নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। বাড়ির ওঠোনে রাখা তাদের নিথর দেহ কাঁদিয়েছে আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার সবাইকে।

গতকাল মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোররাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিন রাতে সবার মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করে জেলা প্রশাসন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের সবারই পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোছলিম মিয়ার স্ত্রী জাহেদা খাতুন (৩০), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও এলাকার মজিবুর রহমান (৫৫) তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪০), হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ তিরাশি এলাকার মাঈন উদ্দিনের স্ত্রী কাকলী আক্তার (৩২), জাহাঙ্গীর মালের স্ত্রী আমাতুন বেগম (৪১) ও মেয়ে মরিয়ম (৪), চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর বালিয়া এলাকার বিল্লাল মিয়াজীর মেয়ে ফারজানা (১৫), হবিগঞ্জের ভোল্লা সদর এলাকার ইয়াছিন আরাফাত (১২), চুরারুঘাট উপজেলার তীরেরগাঁও এলাকার সুজন আহমেদ (২৪), আহম্মেদাবাদ এলাকার আব্দুস সালামের স্ত্রী পিয়ারা, হবিগঞ্জ সদরের আজমত উল্লার ছেলে রিপন (৪৫), বানিয়াচং উপজেলার মদনমুরক এলাকার আইয়ূব হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩০), বড়বাজার এলাকার সোহেল রানার মেয়ে আদিবা (২), হবিগঞ্জ সদরের আনোয়ারপুর এলাকার আলী মো. ইউসূফ (৩২), বানিয়াচং এলাকার ছোয়ামণি (৩) এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার শঙ্কর হরিজনের ছেলে রবি হরিজন (২৩)।

মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় কেউ হারিয়েছেন তার বাবা-মা, কেউ সন্তান কেউবা হারিয়েছেন ভাই-বন্ধু। মরদেহবাহী গাড়িগুলো বাড়িতে ঢোকার পরই স্বজনদের আহাজারি আর হাহাকারে ভারি হয়ে যায় চারপাশের পরিবেশ। বুক ভরা কষ্ট আর ক্ষোভ নিয়ে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার ভোররাতে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে সবাই যখন গভীর ঘুমে ঠিক তখনই ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিপরীত দিক থেকে আসা তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনটি উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয়। তূর্ণাকে পাশ দেয়ার জন্য সংযুক্ত লাইনের এক লাইন থেকে আরেক লাইনে ঢুকছিল উদয়ন। বেশ কয়েকটি বগি ঢুকে পড়লেও তিনটি বগি ঢোকার আগমুহূর্তে তূর্ণা এসে উদয়নকে থাক্কা দেয়। এ ঘটনায় ১৬ জন নিহত হন।

দুর্ঘটনার পর মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জকির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, তূর্ণা নিশীথাকে আউটারে থাকার জন্য সিগনাল দেয়া হয়েছিল। কিন্তু চালক আউটার ও হোম সিগনাল অমান্য করে স্টেশনে ঢুকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।