শীতের আগমনে মির্জাগঞ্জে লেপ-তোষক তৈরীর হিড়িক

  •   
  •   
কামরুজ্জামান বাঁধন, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) করেসপন্ডেন্ট । বাংলালাইভ২৪.কম

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কার্তিক মাসে শীতের জন্ম হলেও পৌষ ও মাঘ এই দুই মাস শীত মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়। পুরোপুরি শীত শুরু না হলেও পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সন্ধ্যার পরপরই অনুভ‚ত হচ্ছে শীতের আমেজ। ভোরবেলা ঘাস আর লতা পাতায় জমে থাকা কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শীত মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ক্রেতাদের আনাগোনায় জমজমাট উপজেলা সদর সুবিদখালীসহ বিভিন্ন এলাকার লেপ-তোষক বানানোর দোকানগুলো। কারিগররাও ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-তোষক তৈরীতে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লেপ-তোষক বানানোর কাজে সকাল থেকে বিরামহীনভাবে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। ক্রেতাকে সময় মতো লেপ-তোষক ডেলিভারী দিতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কারিগর ও তাদের সহকারীরা। উপজেলা সদর সুবিদখালী বন্দরের লেপ-তোষকের কারিগর মোঃ মাসুদ মিয়া বলেন,শীত অনুভ‚ত হওয়ায় ক্রেতারা লেপ-তোষকের দোকানে ছুটছেন।

ক্রেতাদের নিকট থেকে অর্ডার পাওয়ার সাথে সাথে কারিগররাও ব্যস্ত সময় পার করছেন চাহিদা মোতাবেক লেপ-তোষক তৈরীতে। একটি লেপ তৈরি করতে একজন কারিগরের দুই-তিন ঘন্টা সময় লাগে। একজন কারিগর দিনে ৫-৬টি লেপ তৈরি করতে পারেন। অনুরুপভাবে দিনে ৩-৪টি তোষক তৈরিতে একই সময় ব্যয় করেন একজন কারিগর। বর্তমান বাজারে ভালো মানের একটি লেপ বানাতে এক হাজার আটশত টাকা থেকে দুই হাজার দুইশত টাকা খরচ হয়।

আরেক লেপ-তোষকের কারিগর মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,শীত মৌসুমের পুরো তিন মাস কারিগররা যে পরিমানে লেপ-তোষক তৈরী করেন বছরের অন্য সময় তা হয়না। বছরের প্রায় ৯মাস কারিগরদেরকে অনেকটা অলস সময় কাটাতে হয়। আর এ সময় কেউ কেউ ছাতা মেরামতসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকতে হয়। বর্তমানে একেকজন কারিগর দৈনিক পাঁচশত থেকে সাতশত টাকা উপার্জন করছেন।

লেপ-তোষক ব্যবসায়ী মোঃ মতিউর রহমান জানান, তুলা ও সুতার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় লেপ-তোষক তৈরীতে গত বছরের তুলনায় খরচ একটু বেড়েছে। তাছাড়া বর্তমানে বেচা-কেনা ভালোই হচ্ছে। শীতের তীব্রতা যতো বাড়বে বেচাকেনা আরো বাড়বে বলে আশা করছি।

Share via
Copy link
Powered by Social Snap