ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

মোড়েলগঞ্জের তথ্য কেন্দ্রের ‘তথ্য আপা’ ছুটে বেড়াচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত নারীদের পথ দেখাতে

বাংলালাইভ ডেস্ক
জানুয়ারি ৩১, ২০২০ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট করেসপন্ডেন্ট । বাংলালাইভ২৪.কম

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে “শেখ হাসিনার সহয়তায় তথ্য আপা পথ দেখায়” ¤েøাগান নিয়ে ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর এ উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য আপা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। গ্রামীন সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের তথ্য প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন সৃষ্ট করা এর মূল উদ্দ্যেশ্য। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রানালয়ের অধীনে জাতীয় মহিলা সংস্থা এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করেছে।

দেশের আইটি বিভাগের ৬৪ জেলার অর্ন্তগত ৪৯০টি উপজেলায় প্রকল্পের কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। এ প্রকল্প শেষ হবে ২০২২ সালে মার্চ মাসে। এ সময়ের মধ্যে সারাদেশের মোট ১ কোটি নারী ও নারী শিশুদের সহযোগিতা করা হবে তথ্য আপা প্রকল্প থেকে। তাদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে এ প্রকল্প থেকে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার তথ্য কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, অফিসটিতে জনবল রয়েছে ৪জন। তথ্য সেবা কর্মকর্তা দিলশন আরা, তথ্য সেবা সহকারি শিপুল আক্তার, পপি আক্তার ও অফিস সহায়ক মো. শামিম। এ তথ্য কেন্দ্রটি থেকে সেবা সমূহ দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্য চাকুরির খবর, চাকুরির আবেদন পূরন বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল প্রদান, মহিলাদের দিকনির্দেশনা প্রদান, মহিলাদের উদ্যোগী হিসেবে গড়ে তোলা, উঠান বৈঠক ও মুক্ত আলোচনা।

এ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য গ্রামীন তথা তৃনমূল পর্যায়ে নারী তথ্য প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং এ সর্ম্পকিত সেবা প্রদানের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর অংশ গ্রহন এবং অগ্রগতি সাধন করা। এ কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের সনিয়া সুলতানা বলেন, এ তথ্য কেন্দ্রে তিনি এ পর্যন্ত ৩ জন নারীকে নিয়ে এসেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে চাকুরির জন্য আবেদন করছেন তথ্য কেন্দ্রের সহায়তায়।

বৃৃহস্পতিবার কুঠিবাড়ি এলাকায় তথ্য আপার উঠান বৈঠকে উপস্থিতি একজন স্বাবলম্বী নারী আয়সা আক্তার জানান, তথ্য আপার পরামর্শ অনুযায়ী কুঠির শিল্প মাধ্যমে বাড়িতে বসে হাতের কাজ সুতার কাজ করে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ জোগাচ্ছেন তিনি এখন ভালো আছেন।

অনুরুপ বারইখালী গ্রামের শিউলি বেগম জানান, তথ্য কেন্দ্রের পরামর্শ অনুযায়ী ভারমি কম্পোষ্ট সার তৈরি করে বাড়িতে বসে তৈরি করছেন তিনি। পাশাপাশি একজন পল্লী চিকিৎসক হিসেবে হাঁস মুরগীর ভেকসিন দিচ্ছেন, দরর্জী কাজ করে ছেলে মেহেদী বেপারী খুলনা বিএল কলেজে ডিগ্রী পড়ছেন, মেয়ে মিস কেয়া বাগেরহাট পিসি কলেজ অর্নাসের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার যোগান দিচ্ছেন তার আয়ের উর্পাজন থেকে।

এ সর্ম্পকে তথ্য সেবা কর্মকর্তা দিলশন আরা বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, কৃষি, জেন্ডার, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, ইমেল ড্রাউজিং, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল, চাকুরী ক্ষেত্রে এডমিড কার্ড উত্তোলন, কৃষি ক্ষেত্রে গ্রামীন নারীদের স্বাবলম্বী করতে খামার করা, সরকারিভাবে ঋন সহায়তায় পরামর্শ প্রদান ও ব্যবসা বিষয়ে কাজ করছেন তারা। প্রতিমাসে গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠক ছাড়াও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ল্যাপটপের মাধ্যমে ৬টি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে মতামত দেওয়া।

তিনি আরো বলেন প্রকল্পের নামেই এটি কতটা জনবান্ধব। আমরা কিন্তু কোন কর্মকর্তা নই, আপা মানে বোন, গনমানুষের সাথে আমরা মিশে যাই, ইতোমধ্যে এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ইউপি চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে গ্রামীন নারীদের নিয়ে ১৭টি উঠান বৈঠক করা হয়েছে প্রতিটি উঠান বৈঠকে ৫০ জন সুবিধাবঞ্চিত নারী অংশ গ্রহন করেন। চলতি মাসেও তেলিগাতি, পঞ্চকরণ ও পুটিখালী ইউনিয়নে ৩টি উঠান বৈঠক করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। উপজেলা পর্যায়ে ৬ সদস্য বিশিষ্ট রয়েছে মনিটরিং কমিটি। নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি, সদস্য সচিব তথ্য সেবা কর্মকর্তা, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, আইসিটি অফিসার, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সমন্বয়ে ৩ মাস পরপর এ কমিটির সভা করেন।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, সরকার কর্তৃক রুপকল্প ২০২১ এ প্রকল্পের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্টির নারী আর এ গ্রামীন নারীদের স্বাবলম্বী করতে অথনৈতিক কর্মকান্ডের নারীর অংশ গ্রহন ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি হলে দেশের অথনৈতিক আমুল পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে তথ্য আপা নারীদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছেন।