1. banglalivedesk@gmail.com : banglalive :
  2. emonbanglatv@gmail.com : Dewan Emon : Dewan Emon
জাপানে জুয়ার আসর ভেঙে নির্মিত হচ্ছে বৃহৎ মসজিদ!
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

জাপানে জুয়ার আসর ভেঙে নির্মিত হচ্ছে বৃহৎ মসজিদ!

বাংলালাইভ২৪.কম
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক । বাংলালাইভ২৪.কম

অত্যাধুনিক বড় একটি জুয়ার আসর ভেঙে জাপানে তৈরী করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ কমপ্লেক্স। এই জুয়ার আসর পাচিঙ্কুর ভবনসহ জায়গাটি ক্রয় করতে প্রায় ১৮০,০০০,০০০ জাপানি ইয়েন বা ১৬ লাখ ৬২ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। জাপানের টোকিও শহরের ঠিক গা ঘেঁষেই সাইতামা প্রিপেকচারের কোশিগায়া সিটির গামো স্টেশন এলাকায় এটি নির্মিত হচ্ছে।

এখানে একসঙ্গে প্রায় ২ হাজার লোক নামাজ আদায় করতে পারবে। গামো স্টেশন থেকে ১০ মিনিটের হাঁটার দূরত্বে অত্যাধুনিক এই মসজিদ কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার স্কয়ার মিটার আয়তনের এই বিশাল কমপ্লেক্সটি কার্যক্রম শুরু হলে এটি হবে জাপানের সর্ববৃহৎ মসজিদ কমপ্লেক্স।

নির্মিত এই মসজিদে থাকছে শিক্ষা, গবেষণা, অতিথিদের আবাসন ও ইসলামি সংস্কৃতি বিনিময়ে ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ও দাওয়াতি বিভাগ। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ বিশেষ করে জাপানিরা ২৪ ঘন্টা ইসলামি সংস্কৃতি ও মুল্যবোধ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারবে।

এখানে রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের বিশাল স্টেশন। প্রবাসী মুসলমান বিশেষ করে বাংলাদেশীদের সহযোগিতায় জাপান সরকার অনুমোদিত সর্ববৃহৎ এ ইসলামিক সেন্টারটি সারা জাপানব্যাপী দাওয়াহ কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘বায়তুল আমান মসজিদ কমপ্লেক্স’। শিগগিরই বিশাল এ মসজিদটি প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পরে আর্থিক সামর্থ ও সময় নিয়ে ১০ তলা বিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ কমপ্লেক্স করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পশ্চিমাদের বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে ইরান!

সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। যে মার্কিনিরা সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করে তাদের ঘাটিতেই টানা দুই ঘণ্টা ধরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানি সেনারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।

এছাড়া সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের জেরে ইরান ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসারা ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য না ছাড়লে মার্কিন সেনাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের এসব কার্যক্রম বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে পশ্চিমাদের।

গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের বাগদাদে মার্কিনিদের ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে। সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের কঠিন প্রতিশোধ নিতে গত ৮ জানুয়ারি ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

এতে অন্তত ৮০ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। সবমিলিয়ে এ কথা বলা যায় যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কে এখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ জাভেদ জারিফ জানিয়েছেন, ইরান আর কখনোই পারমাণবিক চুক্তিতে জড়াবে না।

বর্তমানে এ সংক্রান্ত কোনো ধরনের সমঝোতায় জড়ানোর মতো পরিস্থিতি নেই। এছাড়া ২০১৫ সালে ছয় জাতির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এক ভাষণে বলেছেন, ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগে আমরা যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছিলাম, বর্তমানে তার চেয়ে আরও বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছি। আর ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

বর্তমানে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের হার ৪ শতাংশ। তবে আগামী ৬ মাসে এই হার বাড়িয়ে ২০ শতাংশে নিয়ে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব হলো পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর পথে একেকটি পদক্ষেপ।

বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্য ইয়েভস লি দ্রিয়ান বলেছেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হবে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি অকার্যকর হয়ে পড়লেই লক্ষ্যে পৌঁছাবে তারা। কারণ দ্রুত সময়ের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর মতো সবধরনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর নেতারা ইতোমধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের আধিপত্য কমে যাবে। সেটা ভেবে বেশ আতঙ্কে আছেন আমেরিকা ও ইউরোপের প্রভাবশালী দেশের নেতারা। তাই তারা ইরানকে কিছুতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দিতে চান না।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চাপে জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো প্রভাবশালী ইউরোপীয় দেশগুলোও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছে। আর তারা এই চাপ প্রয়োগ করছে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করানোর জন্য।

ইরানকে আটকাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রবিবার (১৯ জানুয়ারি) জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ম্যাক্রো ও জনসন জানিয়েছেন, তারা ইরানকে কিছুতেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দিতে চান না। আর ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেজন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি প্রয়োজন।

তবে নিজেদের সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে বেশ তৎপর ইরান। পশ্চিমা দেশগুলোর নেতাদের হুমকিতে পিছপা হতে নারাজ দেশটির নেতারা। বরং তারা পাল্টা হুমকি দিচ্ছেন। সোমবার (২০ জানুয়ারি) ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর ইসমাইল কানি বলেছেন, মার্কিন সেনারা কাপুরুষের মতো হামলা চালিয়ে সোলাইমানিকে হত্যা করেছে।

কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অশেষ অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে আমাদের ওপর। যারা সোলাইমানির রক্তের প্রতিশোধ নিতে চান, তাদের মাধ্যমেই তার (সোলাইমানি) শত্রুদের পাল্টা আঘাত করা হবে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের গোয়েন্দাদের দাবি, পারমাণবিক বোমার মালিক হওয়া থেকে আর মাত্র ১ বছর দূরে আছে ইরান। অনেকে আবার বলেছেন, আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই ইরান পারমাণবিক বোমার মালিক হবে।

এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির আগে ১২টিরও বেশি পারমাণবিক বোমা বানানোর সক্ষমতা অর্জন করে ইরান। কিন্তু পরমাণু চুক্তির পর তারা ওই কার্যক্রম স্থগিত করে। তাই নতুন করে কার্যক্রম শুরু করলে সফল হতে ইরানের বেশি সময় লাগবে না।

সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারে ইরানের এসব কর্মকাণ্ড দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে পশ্চিমা নেতাদের। চাপ প্রয়োগ করেও তারা ইরানকে দমাতে পারছেন না। বরং দুরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে বারবার ইরানই তাদের বেকায়দায় ফেলে দিচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা, পার্সটুডে ও মিডল ইস্ট মনিটর

এ জাতীয় আরো খবর

সতর্কতা

বাংলালাইভ২৪.কমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© All rights reserved © 2019 BanglaLive24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
themesbazarbanglalive1