ঢাকামঙ্গলবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঘামে ভেজা স্বপ্ন ভাসছে পানিতে

বাংলালাইভ ডেস্ক
মার্চ ১২, ২০২০ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক । বাংলালাইভ২৪.কম

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর বস্তিতে ৩ হাজার টাকায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকতেন রোজিনা বেগম। তিনি বাসা বাড়িতে কাজ করেন। তার স্বামী হাসান আলী আনারস বিক্রেতা। পাঁচ বছরের শিশু কন্যা মারজিয়াকে নিয়ে তাদের সুখের সংসার।

প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে মিরপুর ৬ নম্বর বাজারের পাশের একটি বাসায় কাজে যান রোজিনা। ঘর মোছার সময় টেলিভিশনে তাদের বস্তির পাশের ভবনগুলো দেখতে পান। যার পাশে দাউ দাউ করে জ্বলেছে আগুন। দৌড়ে বস্তিতে পৌঁছে বুকের ধন মারজিয়াকে পেলেও আগুনের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে পারেননি ঘর-গৃহস্থালির সামান্য সঞ্চয়ের কিছুই। দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে বেঁচে থাকার সব স্বপ্ন পুড়ে কয়লা হয়ে ভাসতে দেখেন ঝিলের পানিতে।

শুধু রোজিনা নয় ঘাম ঝড়ানো কষ্টের টাকায় তিলে তিলে গড়ে তোলা সবকিছুই হারিয়েছে বস্তির বেশির ভাগ মানুষ। তাদের ঠাঁই এখন খোলা আকাশের নিচে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রূপনগরের বস্তিতে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো বস্তি রূপ নিয়েছে ধ্বংসস্তূপে। কেউ কেউ হাত দিয়ে শেষ স্বম্বল কিছু পাওয়া যায় কিনা সেটা হাতরাচ্ছে। কেউবা মাথা চাপড়িয়ে ফেলছে চোখের পানি। সবারই চোখে মুখে কান্নার স্পষ্ট ছাপ। পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন সেটাই এখন বড় চিন্তা তাদের কাছে।

ইসলামিয়া হাই স্কুলের মাঠে আশ্রয় নেয়া আসমা আক্তার নামে বস্তির এক বাসিন্দা বলেন, ৫ হাজার টাকায় দুই ঘর নিয়ে ভাড়া থাকি। বাসাবাড়িতে কাজ করি। পঙ্গু স্বামী ভ্যানে ফেরি করে পান-সিগারেট বিক্রি করে। স্বামী আর এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, গত সাত মাস আগে বেঁচে থাকার অনেক আশা নিয়ে ভোলার পশ্চিম ইলিশা এলাকা ছেড়ে বস্তিতে ঠাঁই নিয়েছিলাম। কিন্তু এখানেই সব হারালাম।

এদিকে, রূপনগরের এ বস্তিতে আগুন লাগার কারণ নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। বস্তিবাসীর অভিযোগ ২০১৯ সালের আগস্টে রূপনগর থানার পেছনের অংশের বস্তিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হয়। এরপর ৩ মাস আগে বস্তির চারপাশে লাগানো হয় ৪/৫টি বড় সাইনবোর্ড। তাতে লেখা আছে ‘ফ্ল্যাট প্রকল্পের নির্ধারিত স্থান, বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ।’ এই সাইনবোর্ডগুলো লাগানোর আগে রূপনগর বস্তির অন্তত ২০টিরও বেশি ঘর ভেঙে ফেলা হয়। ভাঙতে আসা লোকজন বলেছিল ‘এটা সরকারি জায়গা। এখানে ঘরগুলো বানিয়েছে কারা? এখানে কেউ ঢুকতে পারবে না।’ এরপর বুধবার সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। তাদের দাবি, বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করতে পরিকল্পিতভাবে এ আগুন দেয়া হয়েছে। যদিও অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস।

বস্তিতে ২০টি ঘরের মালিক ইমন সাংবাদিকদের জানান, আমার জন্ম এই বস্তিতে। গত বছর রূপনগর থানার পেছনের অংশে আগুন লাগার পর আমাদের মনে হয়েছিল এই বস্তিতেও আগুন লাগিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করে দেওয়া হবে। আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে গিয়েছি। বলেছি, আমাদের উচ্ছেদ করে দিলে বলে দেন। আমরা চলে যাব। কিন্তু আমাদের আগুনে পুড়িয়ে নিঃস্ব করবেন না। যা ভাবছিলাম তাই হলো।