সচেতনতাই করোনাভাইরাস বৃদ্ধি রোধ করতে পারে

  •   
  •   
মাহমুদুল হাসান, কুবি করেসপন্ডেন্ট । বাংলালাইভ২৪.কম

এই মুহুর্তে সারাবিশ্বের এক আতঙ্কের নাম কোভিড-১৯, যা করোনাভাইরাস নামে পরিচিত। রোগটিকে এখন বিশ্ব মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।সারাবিশ্বে ভাইরাসটি ইতোমধ্যেই বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ভাইরাসটির বিস্তার দিন দিন বেড়েই চলেছে। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ইতোমধ্যে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে ইতালি।

বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের রোগীর সংখ্যা ২০ ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যুবরণও করেছে ১ জন। এই মুহুর্তে যদি আমরা ভাইরাসটির প্রকোপ কমিয়ে আনতেনাপারি তাহলে এর পরিণতিতে আমাদের জন্য ভয়ঙ্কর এক মুহুর্ত অপেক্ষা করছে। সারাবিশ্ব যখন রোগটি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে তখন আমরা গা-ছাড়া ভাবনিয়ে বসে আছি। ইতালিতে রোগটিকে প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্ব না দেয়ায় দেশটি এখন মৃত্যুপুরিতে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশেও সচেতন জনসাধারণ ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে আতঙ্কিত আছে।

আমাদের এখনি সচেতন হওয়া উচিত। বিদেশফেরত লোকদেরকে ১৪ দিন পর্যন্ত কোয়ারান্টাইনে থাকতে সরকারের মাধ্যমে তাদেরকে বাধ্য করতে হবে। বিদেশফেরত লোকদেরকে দেশে মুক্তভাবে ঘুরতে দেয়া যাবেনা। তারা মুক্তভাবে চলাচল করলে করোনাভাইরাস সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ার একটা আশঙ্কা থেকে যায়। সারাবিশ্বের সাথে বিমানচলাচল বন্ধ করতে হবে। কারণ বিদেশফেরত এবং অন্যদেশের লোকদের মাধ্যমেই এই ভাইরাসটি আমাদের দেশে সবার মাঝে ছড়াচ্ছে। সবধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। গণপরিবহন ব্যবহার করা যাবেনা। নিজে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং পরিবার ও সমাজের মানুষদেরকে সচেতন করে তুলতে হবে। বাহিরে বের হওয়ার খুব প্রয়োজন দেখা দিলে স্যার্জিকেল মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং ফিরে এসে ভালোভাবে হাতমুখ সবান দিয়ে ধৌত করতে হবে। করোনার উপসর্গ দেখা দিলে যথাসম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। এলাকার নিরক্ষর মানুষদেরকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।

সমাজের অসাধু ব্যবসায়ী যাতে মানুষের এই শঙ্কট কালীন মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে কোনধরনের ব্যবসা না করতে পারে এবং দ্রব্যমূল্য যেন কোনভাবেই বৃদ্ধি না পায় সেই ব্যাপারে সরকারকে সচেতন থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্হা করতে হবে। যারা এসব অসৎ কার্যকলাপে যুক্ত থাকবে তাদেরকে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্হা করতে হবে। আর সমাজের শিক্ষিত শ্রেণির লোকদের এব্যপারে সচেতন থাকতে হবে। সমাজের মাঝে যদি কোন প্রকার অসংঙ্গতি দেখা দেয় তাহলে সাথে সাথে আমরা স্হানীয় প্রশাসনকে ইনফর্ম করবো। আর এক শ্রেণির মানুষ আছে যারা সমাজের সাধারণ নিরক্ষর মানুষদের অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে সমাজের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকে। সেই সকল ভন্ড শ্রেণির লোকদেরকে সতর্ক করতে হবে, আর নয়ত তাদেরকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে দিতে হবে। কেবলমাত্র জনসচেতনতার মাধ্যমেই এই বিশ্ব মহামরি থেকে আমরা কিছুটা পরিত্রাণ পেতে পারি।

মাহমুদুল হাসান, শিক্ষার্থী- বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

Share via
Copy link
Powered by Social Snap