1. banglalivedesk@gmail.com : banglalive :
  2. emonbanglatv@gmail.com : Dewan Emon : Dewan Emon
  3. emonnagorik@gmail.com : Rajbari Correspondent : Rajbari Correspondent
১০ মাসেও অগ্রগতি নেই কুবি কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সহযোগিতা ফান্ড কার্যক্রমের
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১০:১৫ অপরাহ্ন

১০ মাসেও অগ্রগতি নেই কুবি কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সহযোগিতা ফান্ড কার্যক্রমের

মাহমুদুল হাসান, কুবি করেসপন্ডেন্ট । বাংলালাইভ২৪.কম
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন ও করোনা পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সহযোগিতা ফান্ড গঠনের জন্য আহ্বায়ক কমিটি করার পর ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এই ফান্ড গঠন কার্যক্রমের কোনো অগ্রগতি নেই।

গত বছরের ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের নির্দেশে ও রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশক শাখার পরিচালক ড. জি.এম. মনিরুজ্জামানকে আহ্বায়ক ও অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাছির উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট এই আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিলো।

ছাত্র কল্যান ফান্ড গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে ড. জি.এম. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের আহবায়ক কমিটি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠিতে এ যাবত কালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যান ফান্ডে কি পরিমাণ টাকা জমা হয়েছে এবং এখন কি পরিমাণ টাকা আছে সেটা জানতে চাওয়ার পাশাপাশি ছাত্র কল্যান ফান্ডের জন্য একটি আলাদা একাউন্ট খোলার বিষয়ে বলা হয়।

যাতে করোনাকালীন এবং পরবর্তী যেকোনো সময়ে কোনো শিক্ষার্থীর সাহায্যের প্রয়োজন হলে সে একাউন্ট থেকে কম সময়ে একটি কমিটির মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে সাহায্য করা যায়। আমরা এ পর্যন্ত আবেদন করে রেখেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে আমার জানা মতে , এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ হয়তো নেওয়া হয় নাই।

সহযোগিতা ফান্ড গঠন কমিটির সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক মো: নাছির উদ্দিন বলেন, আমরা মিটিং করে আমাদের সুপারিশগুলো রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠিয়েছিলাম। তবে এখন পর্যন্ত কোন ফিডব্যাক পাইনি।

এখানে উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর শিক্ষার্থী ভর্তির সময় বিভিন্ন খাতে ১২ হাজার ৭৬০ টাকা নেওয়া হয়। যার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী কল্যান ফি/ কল্যান তহবিল/ সাহায্য তহবিল নামেও একটি খাত থাকে৷

আব্দুল্লাহ হক নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কুবিয়ান প্রতিটি শিক্ষার্থীর অন্যতম একটি দাবি ছিল ছাত্র কল্যান ফান্ড গঠন করা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো আজ পর্যন্ত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ফান্ডটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।

প্রায় সময় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোননা না কোন শিক্ষার্থী জটিল কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকেন। অনেক সময় জটিল রোগ হওয়ায় মধ্যবিত্ত এইসব পরিবারের পক্ষে তাদের চিকিৎসার বিপুল পরিমাণ টাকা বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়না। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটা ছাত্র কল্যান ফান্ড গঠন করে তখন ঐ শিক্ষার্থীকে আর্থিকভাবে কিছুটা সহযোগিতা করা হয় সেটা ঐ শিক্ষার্থীর জন্য অনেক বড় একটি সহযোগিতা হয়ে দাঁড়ায়। প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন থাকবে অতি দ্রুত যেন এই ছাত্র কল্যান ফান্ডটা গঠন করা হয়।

এদিকে এতদিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র কল্যান ফান্ড না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত বলেন, আমাদের বিভাগের তানিন মেহেদী নামে এক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য করোনাকালে বড় ধরনের অর্থের প্রয়োজন পড়েছিল৷ আর বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ থাকায় আমাদের পক্ষে বাইরে গিয়ে টাকা উঠানো সম্ভব হয়নি। যদি আমাদের এই ছাত্র কল্যান ফান্ডটা থাকতো, তাহলে আমরা এখান থেকে কিছুটা হলেও সহযোগিতা পেতাম৷ তাই শিক্ষার্থীদের কল্যানেই এই ফান্ডটি জরুরি বাস্তবায়ন করা জরুরি।

ছাত্র কল্যান ফান্ডের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. বনানী বিশ্বাসের বক্তব্যেও।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সহযোগিতা ফান্ড করলে তো ভালো হয়। এটা অন্তত মানবিক একটি দিক। আমিও অনেক সময় বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্ট্রাগল করেছি। একটা নীতিমালার মাধ্যমে এটা চালু করা গেলে অনেক শিক্ষার্থী এতে উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, সহযোগিতা ফান্ড গঠনের জন্য আহবায়ক কমিটি করা হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শ্রেণী কার্যক্রম চালু হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এটা নিয়ে আর ভাবা হয়নি।

এসময় দুরারোগ্য ব্যাধি সহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অসুস্থতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যান ফান্ডের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি বছর আল্লাহ না করুক দুই একজন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। তখন ৩০-৪০ লাখ টাকা তো আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিতে পারবে না।

এটা তো ছাত্রেরা চাঁদা উঠাবে, শিক্ষকেরা দিবে, সবাই মানবিক দিক থেকে দেখবে। এটার জন্য তো আর বিশেষ ফান্ড থাকে না। তবে যা করা হচ্ছে, সেটা হলো ছাত্র কল্যাণের টাকাটা আলাদা করা হচ্ছে। সেটা কোথাও ডিপোজিট করা হবে। সেখান থেকে যেটা আসবে সেটা থেকে ছাত্রদের সহযোগিতা করা হবে।

এ জাতীয় আরো খবর

সতর্কতা

বাংলালাইভ২৪.কমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

© All rights reserved © 2019 BanglaLive24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
themesbazarbanglalive1