1. banglalivedesk@gmail.com : banglalive :
  2. emonbanglatv@gmail.com : Dewan Emon : Dewan Emon
  3. emonnagorik@gmail.com : Rajbari Correspondent : Rajbari Correspondent
মোড়েলগঞ্জে তেলিগাতি আশ্রয়নের বাসিন্দাদের দুঃখে ভরা জীবন
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

মোড়েলগঞ্জে তেলিগাতি আশ্রয়নের বাসিন্দাদের দুঃখে ভরা জীবন

এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট করেসপন্ডেন্ট । বাংলালাইভ২৪.কম
  • আপডেট সময় সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

অভাব আর দুঃখে কষ্টে ভরা যাদের জীবন তাদের আবার কথা কি?। তার পরেও জীবন যুদ্ধে সংগ্রামে থেমে নেই দিনমজুর শ্রেনীর মানুষ। মাথাগোজার একটু ঠাই মিলেছিলো এ আশ্রয়নে। পৈত্তিক কোন ভিটেমাটি নেই তাদের। পরিবার পরিজন নিয়ে এ আশ্রয়নে তাদের বসবাস। এমন একটি আশ্রয়ন কেন্দ্র দড়াটানা নদীর শাখার তীরবর্তী বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের তেলিগাতি ইউনিয়নের হেড়মা মিস্ত্রীডাঙ্গা আশ্রয়ন কেন্দ্রটি।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিড়র পরবর্তীতে সরকারিভাবে ৪ এর জমির ওপর এ আশ্রয়ন কেন্দ্রটি নির্মিত হয়। দুটি ব্যারাকে ৯০টি পরিবারের বসবাস। পরবর্তীতে অনেকের অভাবের তাড়নায় কর্মসংস্থানের তাগিদে অন্যত্র চলে গেছে অবস্থান করছে বিভিন্ন শহরে।

খাবার পনির জন্য ৪টি টিউবয়েল, স্যানিটেশন ল্যাট্রিন দিলেও পরবর্তীতে তা ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দুটি টিউবয়েল চুরি হয়ে যায়, বাকিদুটি টিউবয়েল অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামান্য বৃষ্টি হলেই দুশ্চিন্তায় অন্ত থাকেনা এ আশ্রয়ন বাসিন্দাদের। অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে দিনে দুবার ভাসতে হয় তাদের।

আশ্রয়ন কেন্দ্রটি নির্মিত হবার পর থেকেই আজ পর্যন্ত হয়নি কোন সংস্কার। পলেস্তরা খসে ভেঙ্গে পড়েছে পিলার। ঘূর্ণিঝড় আইলা, বুলবুল সর্বশেষ ইয়াসে উঠিয়ে নিয়েছে অনেক কক্ষের টিনের চালা। কোনমতে পলিথিন টানিয়ে বর্তমানে বসবাসকৃত ২৫টি পরিবার ছেলে মেয়ে পরিজন নিয়ে দিন কাটছে তাদের।

কথা হয় আশ্রয়নের বাসিন্দা বৃদ্ধা সাফিয়া বেগম (৭০), জাহানারা বেগম (৩৫), ফজলুর রহমান খান (৫৫), পাখি বেগম (৪৫), মালেক হাওলাদার (৬০), কামাল হাওলাদার (৬৫), ছালাম শেখ (৫০)সহ একাধিক বাসিন্দারা জানান, আমাদের মত অভাগিদের দুঃখের কথা কেউ শোনেনা। ৭দিন ধরে চুলা জলেনি। অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে হাটুপানি থাকের ঘরের মধ্যে। বন্যা এলে ২-৩ গ্রামের মধ্যে নেই কোন আশ্রয়ন সাইক্লোন শেল্টার পাকা ভবন। দুই কিলোমিটার পায়ে হেটে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দাবি আশ্রয়ন কেন্দ্রটি সংস্কারসহ একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করে আমাদের বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য করার জোর দাবি জানাচ্ছি। ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান বলেন, আশ্রয়ন কেন্দ্রটি নির্মাণের পরে আর কোন সংস্কার হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে এটি সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।
এ সর্ম্পকে ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদা আক্তার বলেন, নদীর তীরবর্তী তিনটি ওয়ার্ডের প্রায় ৫ হাজার লোকের বসবাস। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুর্হুতে ১০ কিলোমিটার পায়ে হেটে নিরাপত্তার জন্য সাইক্লোন শেল্টারে যেতে হয় এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের। একটি সাইক্লোন শেল্টারের জন্য ইতোপূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়ন কেন্দ্রটি জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার না হলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। স্থানীয়দের দাবি এ আশ্রয়নটি পুনঃনির্মাণের।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তেলিগাতি আশ্রয়ন প্রকল্পের জরাজীর্ণ বিষয়টি শুনেছি। শুধু তেলিগাতি আশ্রয়ন কেন্দ্রটি নয় সব আশ্রয়ন সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় সহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দপ্তরে তালিকা প্রেরন করা হবে।


 

এ জাতীয় আরো খবর

সতর্কতা

বাংলালাইভ২৪.কমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

© All rights reserved © 2019 BanglaLive24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
themesbazarbanglalive1