ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মোড়েলগঞ্জে ঝড়োহাওয়ায় ২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, পানির নিচে ৮ হাজার মৎস্য ঘের

Link Copied!


সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ৩দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও ঝড়োহাওয়ায় বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে পল্লী বিদুৎতের খুটি ভেঙ্গে পড়ে ২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানির নিচে নিমজ্জিত ৮ হাজার মৎস্য ঘের। লন্ড ভন্ড গাছ পালা বিধস্ত অর্ধশতাধিক কাচা-পাকা বাড়িঘর। ১০ হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে, বসতঘরে চাপা পড়ে আহত হয়েছে দুই জন। ১৫০ হেক্টর আমন বীজতলা ক্ষতির সম্ভাবনা। প্রভাবশালীদের খালে বাঁধের কারনে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নসহ পৌর শহরে সোমবার থেকে একটানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে বৃহস্পবিার ৫টা পর্যন্ত গোটা শহর ছিলো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন।

পল্লী বিদ্যুৎতের ৩৩ কেভি ৮/১০টি বৈদ্যতিক খুটি পাঁচগাও আমতলী, সানকিভাঙ্গা সহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে খুটি ভেঙ্গে পড়েছে। মোরেলগঞ্জ শহরে সাবমেরিন ক্যাবলের মাথা ভেঙ্গে বিধস্ত হয়েছে। রাত ২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেছে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়াও বাগেরহাট গ্রীড থেকে সানকিভাঙ্গা পর্যন্ত লাইন চেকিং কাজ চলমান রেখেছে বলে জানিয়েছেন ডিজিএম এবিএম মিজানুর রহমান। নদীর তীরবর্তী বহরবুনিয়া, হোগলাবুনিয়া, পঞ্চকরণ, তেলিগাতি, বারইখালী, বলইবুনিয়া, মোড়েলগঞ্জ সদর, নিশানবাড়িয়া ও জিউধরায় ভারী বর্ষণে অতিরিক্ত পানিতে ৮ হাজার মৎস্য ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে মৎস্য ঘেরের ভেরি ধসে গিয়ে বেড়িয়ে গেছে বাগদা, গলদা, বিভিন্ন প্রজাতির সাদামাছ। এতে ঘের ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। লন্ড ভন্ড হয়েছে গাছ পালা, গাছ পড়ে অর্ধ শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘর বিধস্ত হয়েছে। সম্পূর্ন বিধস্ত জিউধরা ইউনিয়নের কাকড়াতলি, বহরবুনিয়ার উত্তর ফুলহাতা ও গোলবুনিয়া গ্রামের ৩টি বসতঘর। ঘর চাপা পড়ে গুরুত্বর আহত হয়েছে ইমাম শেখ (৫৫) ও লোকমান শিকদার (২৮) নামের দুই কৃষক। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জিউধরার ২৯ গ্রাম, বহরবুনিয়ার ৬, পঞ্চকরণের ২, তেলিগাতির ২, খাউলিয়ায় ১৬, বারইখালী ৮, মোড়েলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৩ গ্রামসহ শতাধিক গ্রামের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

ওয়াবদা ভেরিবাঁধ এলাকায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রভাশালীরা সরকারি রেকর্ডীও খাল বন্ধ করে রেখে পানি চলাচল বাঁধাগ্রস্ত করছে। সুইজগেটগুলো খোলা থাকলেও জলাবদ্ধ পানি বের হতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ জিউধরা, বহরবুনিয়া বটার খাল, ডেনাতলা, উত্তর ফুলহাতা মাঝের খাল, নোনা খাল, শনিরজোর, কাজি মার্কেটের খাল, ঘষিয়াখালী কবিরাজবাড়ি খালসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি রেকর্ডীও খালগুলোতে বাঁধ সৃষ্টি করায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ বাঁধগুলো অতি দ্রæত অপসারণ করে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ সর্ম্পকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ বলেন, ৩দিনের ভারী বর্ষণে আমন বীজতলায় স্থায়ীভাবে পানি জমে থাকলে ১৫০ হেক্টর বীজতলার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, মৎস্য অধ্যুষিত ইউনিয়নগুলোতে খোজ নিয়ে ক্ষতির নিরুপন করা হচ্ছে। প্রায় ৫ হাজার মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে।

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোড়েলগঞ্জ জোনালের ডিজিএম এবিএম মিজানুর রহমান বলেন, ৩৩ কেভি বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন এলাকা গাছ পড়ে যাওয়া তার থেকে দ্রæত গতিতে গাছ অপসারন করা হচ্ছে। বিকেল ৫টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভারী বর্ষণ ও জড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে তালিকা করার জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতির নিরুপন করে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হবে। বরাদ্দ পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।