ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কারখানায় দূরত্ব বজায় রাখবে প্লাস্টিকের পার্টিশন

অনলাইন ডেস্ক । বাংলালাইভ২৪.কম
আগস্ট ১, ২০২১ ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!


কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই ১২ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হলো পোশাক ও শিল্প কারখানা। কর্তৃপক্ষ বলছেন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আইসোলেশন সেন্টারসহ নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। দূরত্ব বজায় রাখতে মাঝখানে রয়েছে প্লাস্টিকের পার্টিশন। দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা তৈরি পোশাক কারখানায় নির্দেশনা মেনেই চলছে কাজ।

রোববার (১ আগস্ট) সকালে কয়েকটি ধাপে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে, তাপমাত্রা মেপে কর্মস্থলে প্রবেশ করানো হয় শ্রমিকদের। করোনা প্রতিরোধে কারখানা কর্তৃপক্ষের নেওয়া ব্যবস্থায় অনেকটা সন্তোষ প্রকাশ করেন কর্মীরা।

শ্রমিকরা বলেন, কারখানায় কাজ করে আমরা সংসার চালাই। কিন্তু কারখানা বন্ধ থাকলে আমরা চলবো কী করে! তাই কারখানা খোলা থাকলে আমাদের সবার জন্যই ভালো। আমাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। কোম্পানি আমাদেরকে যে ব্যবস্থা দিয়েছে, আমরাও মানছি। এভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করলে সমস্যা হবে না বলে মনে হচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতিতে জীবন ও জীবিকা দুটোকেই গুরুত্ব দিয়ে কর্মীবান্ধব পরিবেশ রক্ষায় চেষ্টা করছেন বলে জানান কারখানা কর্তৃপক্ষ। গাজীপুরে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং সার্ভিসেস লিমিটেডের জিএম আবু রাহাত সিদ্দিকী বলেন, যদি কারও জ্বর বা তাপমাত্রা বেশি পাওয়া যায়, তবে তাকে সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেলে পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক আমরা তাকে হোম আইসোলেশন অথবা আমাদের আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। এছাড়া, করোনা টেস্ট করার প্রয়োজন হলে তাকে আমরা টেস্ট করার ব্যবস্থা রেখেছি।

শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরে ২ হাজর ৭২টি তৈরি পোশাক কারখানায় ২০ লাখের বেশি শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন।

এদিকে, করোনা সংক্রমণে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই রোববার (১ আগস্ট) থেকে চালু হচ্ছে পোশাক কারখানা। এ ঘোষণায় গ্রামে আটকা পড়া শ্রমিকরা যে যেভাবে পারছেন ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা কর্মস্থলে ছুটছেন। তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে পোশাক কারখানা মালিকদের সমালোচনা যখন চরমে, এমন সময়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

সংবাদমাধ্যমে সংগঠনটির সভাপতির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। সেখানে সভাপতি ফারুক হাসান জানান, রপ্তানিমুখী শিল্পের সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকার ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা লকডাউনের আওতাবহির্ভূত রাখার জন্য গত ৩০ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এ সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এই করোনা ক্রান্তিকালে রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এবং দেশ ও অর্থনীতি এবং জীবন ও জীবিকা দুটোই সমন্বয়ের স্বার্থে সব রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে কারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত এবং বিজিএমইএ প্রদত্ত সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সংগঠনের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।