ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে কনটেইনার জট

অনলাইন ডেস্ক । বাংলালাইভ২৪.কম
আগস্ট ১, ২০২১ ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!


জাহাজ থেকে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য হারে কনটেইনার নামানো হলেও বন্দর থেকে পণ্য খালাসের হার সেই তুলনায় বাড়ছে না। এতে করে বন্দরে পণ্যবাহী কনটেইনারের জট সৃষ্টি হচ্ছে। যদিও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২৫ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের জট কমাতে সব ধরনের আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে (অফডক) সরিয়ে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হচ্ছে না।

সরজমিনে দেখা গেছে, ১৯টি অফডকের মধ্যে সচল রয়েছে ১৭টি অফডক। জাহাজ সংকটের কারণে ১৭টি অফডকে রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার জটের সাথে যুক্ত হয়েছে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে স্থানান্তরিত আমদানি কন্টেইনারের বাড়তি চাপ। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে সক্ষমতার ৮৭ ভাগ কন্টেইনারে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।

বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ১৫ শতাংশ জায়গা খালি রাখা হয়ে থাকে। ৪৯,০১৮ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার) ধারণ ক্ষমতার চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে গত ২৮ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত কন্টেইনার ছিল ৪২,৬৭৪ টিইইউস।

একই অবস্থা অফডকগুলোতে। গত ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১৭টি অফডকের প্রায় ৭৫ ভাগ কন্টেইনার পূর্ণ ছিল। খালি আছে ২৫ ভাগ জায়গা। স্বাভাবিক সময়ে অফডকগুলোতে ৩০ ভাগ জায়গা খালি থাকে। মূলত গত ১৪ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে ইয়ার্ড এবং জেটির সংখ্যা না বাড়ায় প্রতিবছর এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অফডক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘গত ২৫ মে এনবিআরের নির্দেশনার পর এ পর্যন্ত ৩ হাজার টিইইউস আমদানি কন্টেইনার বন্দরের ইয়ার্ড থেকে অফডকে নিয়ে আসা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে অফডকগুলোতে ৩০ ভাগ জায়গা খালি থাকলেও কন্টেইনারের চাপ বাড়ায় বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার প্রায় ২৫ ভাগ জায়গা খালি আছে। ঈদের ছুটিতে কন্টেইনার ডেলিভারি কমে যাওয়ার পর এখনো স্বাভাবিক হয়নি ডেলিভারি পরিস্থিতি। এই অবস্থা চলতে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে বন্দর এবং অফডকগুলোতে কন্টেইনার জট আরো বেড়ে যাবে।’

বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আমদানি কন্টেইনার সরানো হলেও ডেলিভারি কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর এবং অফডক দুটোতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ঈদের ছুটির পর চলমান টানা ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।