ঢাকাসোমবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নেপালের ‘দুঃখ’ আলফাজ গোলের জন্য ভরসা ডিফেন্ডারদের ওপর

স্পোর্টস ডেস্ক
অক্টোবর ১২, ২০২১ ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সাফ গেমসের ফাইনাল। নেপালের বিপক্ষে বলটা জালে জড়াতেই দুই হাত ছড়িয়ে দৌড় শুরু করলেন আলফাজ আহমেদ। একে একে তাঁর কাঁধের ওপর লাফিয়ে উঠলেন সতীর্থ খেলোয়াড়েরা। কাঠমান্ডুর সেই ছবিটা বাংলাদেশের ফুটবলের দেয়ালে এখনো পোস্টার হয়ে হাসছে। নেপালের বিপক্ষে সেই গোলের দৃশ্য আজও দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে জীবন্ত। জয়সূচক এই গোলেই নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ গেমস ফুটবলের সোনা জেতে বাংলাদেশ।

এর ৪ বছর পরে, ২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে হারিয়েই টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। ১-০ গোলের জয়ের গোলটি এসেছিল আলফাজের পা থেকেই। ২০০৫ সাফ ফুটবলেও নেপালের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। জোড়া গোল করেছিলেন রোকনুজ্জমান কাঞ্চন। এর পরে সাফে তিনবার মুখোমুখি হলেও নেপালকে আর হারাতে পারেনি বাংলাদেশ।

সাফ গেমস বা সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, নেপাল বাংলাদেশের জন্য এখন হয়ে উঠেছে কঠিন এক প্রতিপক্ষের নাম। সর্বশেষ ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের কাছে হেরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার গ্রুপ পর্বের হিসাব নেই। ৫ দলের রাউন্ড রবিন লিগ শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী দুটি দল খেলবে ফাইনালে। সেই পথেও আজ বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নেপাল। ফাইনালে খেলতে হলে তাদের হারাতেই হবে। ড্র করলেও বিদায়।

নেপালের বিপক্ষে বড় সুখ স্মৃতি উপহার দেওয়া সেই আলফাজ আগামীকালের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ‘ফিফটি-ফিফটি’ সম্ভাবনা দেখছেন। যেহেতু জেতা ছাড়া কোনো রাস্তা নেই, তাই তাঁর প্রত্যাশা অলআউট ফুটবল খেলুক জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মণরা। আলফাজ বলেন, ‘ম্যাচটি আমার কাছে ফিফটি ফিফটি। তবে স্বীকার করতেই হবে নেপাল আমাদের চেয়ে ভালো দল। বাংলাদেশের জয় ছাড়া কোনো রাস্তা নেই। জিততে হলে অলআউট ফুটবল খেলতে হবে।’

সেই সাফ গেমস ছাড়াও ঘরের মাঠে ২০০৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও আলফাজের গোলে নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের টুর্নামেন্টে শুরু। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ হয়েছিল চ্যাম্পিয়নও। এর ১৭ বছর পরে এসে সাফের ফাইনাল খেলাটাই এখন বাংলাদেশের স্বপ্ন। এতেই বোঝা যায়, কতটা পেছনের দিকে হাঁটছে বাংলাদেশের ফুটবল।

জিততে হলে প্রয়োজন গোলের। সেই গোলটা করবেন কে? ডিফেন্ডারদের ওপর ভরসা রাখতে হচ্ছে আলফাজকে, ‘আমাদের আক্রমণভাগের অবস্থা ভালো নয়। উইং থেকে ভালো ক্রস নেই। ভালো একটা পাস দিয়ে গোলমুখ খোলার মতো মিডফিল্ডার নেই। সেট পিস থেকেই গোল করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আমি মনে করি তপু বর্মণের গোল করার ভালো সুযোগ আছে। প্রতিটি সেটপিসে ওর ভালো মুভ থাকে।’

আলফাজ ডিফেন্ডারদের ওপর চোখ রাখলেও গোলের জন্য নির্দিষ্ট করে কারও দিকে তাকিয়ে থাকতে চান না কাঞ্চন, ‘আমাদের সমস্যা গোল করা। ফরোয়ার্ডরা গোল মিস করছে। কাল মিস করলে সে খেসারত দিতেই হবে। তবে আমি নির্দিষ্ট করে কারও দিকে তাকিয়ে থাকতে চাই না। গোল ডিফেন্ডাররাও করতে পারে। সেটাই হয়ে আসছে। তবে এখন মতিন মিয়ার কিছু করে দেখানো উচিত। তাঁর মধ্যে প্রকৃতি প্রদত্ত কিছু বিষয় আছে। সেটা আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রমাণ করে দেখানো উচিত।’

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচ খেলে দুটি গোল করেছে বাংলাদেশ। দুটি গোলই এসেছে ডিফেন্ডারের পা থেকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন সেন্টারব্যাক তপু বর্মণ। ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচে গোল করেছিলেন লেফটব্যাক ইয়াছিন আরাফাত। নেপালের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচেও কী তাকিয়ে থাকতে হবে কোনো ডিফেন্ডারের দিকে?