ঢাকামঙ্গলবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কবুতর পুষে মাসে আয় লাখ টাকা

অনলাইন ডেস্ক
নভেম্বর ৭, ২০২১ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

এ দেশে শখের বশে কবুতর পোষার রেওয়াজ আছে। এ কারণে গ্রাম কিংবা শহরে অনেককেই কবুতর পুষতে দেখা যায়। নাটোরের আবু সাইদও তাদেরই একজন। যিনি শখ করে কবুতর পোষা শুরু করেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ বছরে ৭০ বছর বয়সী তিনি যে এত বড় খামারের মালিক হয়ে উঠবেন, সেটা অনেকের কল্পনার অতীত ছিল। সিংড়া উপজেলার আদিমপুর গ্রামে এ নিয়ে চলছে নিত্য আলোচনা।


বাংলালাইভের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন


২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ২৩ হাজার টাকায় ১০ জোড়া কবুতর দিয়ে শুরু হয় তাঁর খামার। বসতভিটায় ৮৪ ফুট লম্বা ও ১৯ ফুট চওড়া খামার গড়েছেন তিনি। খামার পরিচর্যায় দুজন শ্রমিক তাঁকে সহযোগিতা করে। সেই ১০ জোড়া কবুতর থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৫০ জোড়া। এই খামার তাঁর বাড়তি উপার্জনের পথ তৈরি করেছে।

বর্তমানে যাবতীয় ব্যয় বাদে তাঁর মাসিক আয় প্রায় এক লাখ টাকা। খামারে আছে ইন্ডিয়ান ফান্টেল, লাহোর কালো, হলুদ, তুরিবাজ লাল, কালো, এলমন্ড, ইন্ডিয়ান নোটন, দেশি লোটন, বাশিরাজ কোকা, মাক্সি রেচার হুমা, সবজে গিরিবাজ, লাল, সাদা, হলুদ মুম্বাই, আমেরিকান সো কিং, কালদম, মুক্ষি লাল, হলুদ, কালো, সিলভার, কফি, ঝরনা শাটিন, ল্যাভেন্ডার সুয়া চন্দন, শেকড়সহ ৩০টি প্রজাতির কবুতর। খামার থেকেই সবচেয়ে বেশি কবুতর বিক্রি হয়। তাঁর খামারে কবুতরের জোড়ার সর্বনিম্ন দাম তিন হাজার এবং সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা।

আবু সাইদ জানান, একসময় শুধু শখে শুরু হলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে এই কবুতর পালা সম্ভব। বেকার যুবকরা কবুতরের খামার করে স্বনির্ভর হতে পারে। সব সময় এর বাজার চাহিদা থাকে।

তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে কবুতর রপ্তানি করে বছরে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। কবুতরের অসুখ হলে তিনি নিজেই চিকিৎসা করতে পারেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এস এম খুরশিদ আলম জানান, আবু সাইদ একজন সফল খামারি। আমি তাঁর খামার পরিদর্শন করেছি, খুবই ভালো লেগেছে। তিনি ছাড়াও এই উপজেলায় শতাধিক কবুতর খামারি রয়েছেন। তাঁদেরকেও আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। খামারিরা চাইলে আমরা সকল প্রকার পরামর্শ ও সহযোগিতা করতে আগ্রহী।