ঢাকামঙ্গলবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দাফন-কাফনের যেসব রীতি ইসলামে নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
নভেম্বর ২২, ২০২১ ৭:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইসলাম প্রাণহীন মানবদেহকে বিশেষ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে। সম্মানের সঙ্গে লাশ কাফন ও দাফন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে নবীজি (সা.) প্রচলিত জাহেলি রীতিনীতিতে কিছু সংস্কারও আনেন। নিম্নে বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।


বাংলালাইভের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন


১. কবর পদ্ধতির অনুমোদন : আরবদের কাছে মৃত মানুষের শেষকৃত্যের পদ্ধতি হিসেবে কবর দেওয়ার প্রচলন ছিল। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুসারে কবরস্থ করার পদ্ধতি আদম (আ.)-এর সময়কাল থেকে প্রচলিত। মক্কার বিখ্যাত কবরস্থান ‘আল-মুআল্লা’ আর মদিনার ‘আন-নাবিগা’, যা পরবর্তী সময়ে ‘বাকি আল-গারকাদ’ কবরস্থানে সংযুক্ত হয়েছে মৃতদের কবরস্থ করার প্রমাণ। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে মাটিতে প্রত্যাবর্তন করা তথা মৃতদের কবরস্থ করার দিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

২. মৃত ব্যক্তির সম্মান জীবিতের মতোই : নবীজি (সা.) মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙতে নিষেধ করে তা জীবিত অবস্থায় হাড় ভাঙ্গার সমতুল্য আখ্যা দিয়েছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৩২)

মানুষের লাশ পাখি বা অন্য প্রাণীকে খেতে দেওয়া, হাড় দিয়ে আসবাব তৈরি করা কিংবা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া ইসলামে অনুমোদিত নয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৬৬৪)

৩. মাতাম নিষিদ্ধ : মৃতের জন্য গণ্ডে চপেটাঘাত করা, জামার বুক ছিন্ন করা ও চিৎকার-চেঁচামেচি করার মতো জাহেলি কুসংস্কার ইসলামে নিষিদ্ধ। (বুখারি, হাদিস : ১২২০)

৪. কৃত্রিম শোকাবহ নিষিদ্ধ : জাহেলি যুগের একটি রীতিকে ‘আন-নিয়াহা’ বলা হতো। তা হলো সাধারণ গণজমায়েতের স্থানগুলোতে ঘোষণার মাধ্যমে মৃত্যুর সংবাদ জ্ঞাপন এবং সঙ্গে মৃতব্যক্তির বংশীয়-গৌরব ও কীর্তিগুলো উল্লেখ করা হতো। তার জন্য বিলাপ, আর্তনাদ ও হাহুতাশ প্রকাশ করা হতো। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৮৪-৯৮৬)

তবে স্বাভাবিক কান্না এবং সংবাদ প্রচার অনুমোদিত। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) আশপাশের গ্রামগুলোতে মৃত্যু সংবাদ না দিয়ে রাফি ইবন খাদিজের (রা.) মতো ব্যক্তির জানাজা পড়া যায় না বলে মতামত দিয়েছিলেন (সুনানে বায়হাকি : ৪/৪৭)

৫. ব্যবহার্য জিনিসপত্র দান : লাশের সঙ্গে কবরে ব্যবহার্য জিনিসপত্র, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান দ্রব্যাদি দিয়ে দেওয়া ছিল জাহেলি পদ্ধতি। ইসলাম কাফনের কাপড় ছাড়া আর কিছু কবরে দেওয়া নিষিদ্ধ করেছেন।

৬. মিথ্যা স্তুতি নিষিদ্ধ : মৃতের বন্দনা করে মর্সিয়া কবিতা লেখা ও পাঠ করাকে ‘রাসা’ বলা হয়। নবীজি (সা.) তা থেকে নিষেধ করেছেন। (ইবন মাজাহ, হাদিস : ১৫৯২)

হানাফি মাজহাবের ইমামরা জানাজার সময় স্তুতি পাঠ মাকরুহ মনে করেন। তবে অন্য সময় অতিরঞ্জিত না করার শর্তে মৃত ব্যক্তির উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি অবলম্বনে মুর্সিয়া রচনা ও পাঠ তারা অনুমোদিত মনে করেন। (রদ্দু মোহতার : ২/২৩৯)

৭. জানাজার নামাজ প্রবর্তন : জাহেলি যুগের জানাজার পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। লাশ ধর্মীয় উপাসনালয়ে একটি উঁচু স্থানে রাখা হতো। তারপর মৃতের অভিভাবক এগিয়ে এসে তার গুণাবলি উল্লেখ করতে থাকত। মৃত ব্যক্তির বিভিন্ন কীর্তি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ ও তা গণনা করা হতো। তারপর কিছু সময় চুপ থাকত এবং বলত, ‘আলাইকা রাহমাতুল্লাহ’ (আল্লাহর রহমত তোমার ওপর বর্ষিত হোক) এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে জানাজা সমাপ্ত হতো। (মাওসুআতুল হারামাইন, পৃষ্ঠা : ২৫৯)

নবীজি (সা.) চার তাকবিরের মাধ্যমে বিভিন্ন দোয়া পড়ে জানাজার নামাজের প্রচলিত পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।

৮. সৌধ নির্মাণ নিষিদ্ধ : জাহিলি যুগে কবরকে উঁচু করে সৌধ নির্মাণ প্রথা ছিল, নবীজি (সা.) এমন উঁচু সৌধ ভেঙে দেওয়ার জন্য সাহাবিদের প্রেরণ করেছেন। (মুসলিম, হাদিস : ২১১৫)। কবর পাকা করা, কবরের ওপর কোনো কিছু লেখা কিংবা কিছু নির্মাণ করা জাহেলি পদ্ধতি। নবীজি (সা.) এসব নিষিদ্ধ করেছেন। (তিরমিজি, হাদিস : ১০৫২)

৯. ভোজ সভা নিষিদ্ধ : মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর মরা বাড়িতে খানা ও ভোজের আয়োজন এবং লোকের জমায়েতকে সাহাবিরা জাহেলিয়াতের মাতাম হিসেবে গণ্য করতেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৯০৫)। তবে মৃতের আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীদের কেউ তা করা দূষণীয় নয়; বরং দায়িত্ব ও কর্তব্য। জাফর ইবন আবি তালিবের (রা.) পরিবারের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতে নবীজি (সা.) আদেশ দিয়েছিলেন। [আবু দাউদ, হাদিস : ৩১১৮)

১০. বিধবা নারীর শোক সীমিতকরণ : ইসলামে নারীদের জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস ১০ দিন শোক পালন করবে। (বুখারি, হাদিস : ৫৩৩৪)

জাহিলি যুগে স্বামীর মৃত্যুর এক বছর পর নারীদের মাথায় বিষ্ঠা নিক্ষেপ করা হতো, তাদের অতিক্ষুদ্র একটি কোঠায় রাখা হতো, নিকৃষ্ট কাপড় পরিধান করত, কোনো সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারত না। ইসলাম তা নিষিদ্ধ করেছে। (বুখারি, হাদিস : ৪৯৪৮)