ঢাকামঙ্গলবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বাতজ্বর ও বাতরোগ পরীক্ষার পর চিকিৎসা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
নভেম্বর ২০, ২০২১ ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাতজ্বর ও বাতরোগ মোটেও এক নয়। তবে যারা শৈশবে বাতজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বাতরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বাতজ্বর : মেডিক্যালের পরিভাষায় এ রোগের নাম রিউমেটিক ফিভার। এটি প্রদাহজনিত রোগ। সাধারণত ৫-১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোর এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রথমে গলায় স্ট্রেপটোকক্কাস নামক অনুজীবের সংক্রমন ঘটে। পরে তার বিরুদ্ধে শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তা হৃৎপি-, মস্তিষ্ক, অস্থিসন্ধি, চামড়া ইত্যাদি স্থানের টিস্যুতে আক্রমন করে প্রদাহের সৃষ্টি করে। ফলে রোগীর হাত-পায়ের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা হয়। ফুলে যায়। মস্তিষ্কে প্রদাহের কারণে জ্বর ও কাঁপনি দেখা দেয়। হৃদপিন্ডে প্রদাহের কারণে বুকে ব্যথা ও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চামড়ায় লাল লাল দাগ দিয়ে থাকে।


বাংলালাইভের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন


বাতরোগ : বাতরোগ বা আর্থ্রাইটিস এক ধরনের অস্থিসন্ধির প্রদাহজনিত রোগ। বাতরোগ কয়েক ধরনের হয়। যেমনÑ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউটি আর্থ্রাইটিস, জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস ইত্যাদি। এর মধ্যে জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস ছাড়া বাকিগুলো পুর্ণবয়স্কদেরও হয়। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস ২৫-৩০ বছর বয়সীদের প্রথম দেখা দেয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস দেখা দিয়ে থাকে পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস : এটি একটি অটোইম্যুউন ডিজিজ, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বাইরে। এ রোগ ২৫-৩০ বছর বয়সে প্রথম দেখা দেয়। এতে হাত-পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টে ব্যথা হয়। ফুলে যায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় খুব বেশি ব্যথা করে। একটু হাঁটাচলা করলে কিছুটা কমে আসে।

গাউটি আর্থ্রাইটিস : বাংলায় বলে গেটেবাত। এ রোগে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে জয়েন্টে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এ রোগটি প্রথমে পায়ের বড় আঙুল আক্রান্ত করে। ক্রমে হাত ও পায়ের অন্যান্য জয়েন্ট আক্রান্ত করে।

জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস : এটি শিশুদের বাতরোগ। সাধারণত ১৬ বছর বয়সীদের মধ্যে দেখা দেয়। এ রোগটি পাঁচ ধরনের হয়ে থাকে। যেমনÑ সিস্টেমিক আর্থ্রাইটিস, অলিগো আর্থ্রাইটিস, পলি আর্থ্রাইটিস, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস ও এনথেসিস রিলেটেড আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রেও রোগীর বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা, দীর্ঘমেয়াদি জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, চোখে কম দেখা উপসর্গ দেখা দেয়।

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস : এক ধরনের এ চর্মরোগে রোগী আক্রান্ত হয়ে ক্রমে সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হয়। এ রোগেও রোগী জয়েন্টে ব্যথা, ফুলে যাওয়া সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে এ রোগ থেকে স্পন্ডাইলাইটিস ও সেকরালাইটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস : এটি বয়সজনিত জয়েন্টের অভ্যন্তরীণ গঠনের ক্ষয়রোগ। এ রোগের কারণে জয়েন্টের ভেতরে অবস্থানরত কার্টিলেজ ও জয়েন্ট সারফেজ ক্ষয় হতে থাকে। জয়েন্টের অভ্যন্তরীণ সাইনোভিয়াল ফুইডও কমে যায়। ফলে জয়েন্টের ভেতরের স্পেস কমতে থাকে। ফলে আক্রান্ত রোগীর জয়েন্ট নাড়াতে কষ্ট হয়। সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের হয়ে থাকে। বিশেষ করে হাঁটু, ঘাড়, কোমর, হিপসহ শরীরের বড় বড় জয়েন্টে এ অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়ে থাকে।

অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস : মেরুদ-ের এ বাতরোগ প্রথমে মেরুদ-ের নিচের অংশে আক্রমণ করে। ক্রমে মেরুদ-ের অন্যান্য অংশে তা ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের খারাপ দিক হলোÑ এটি মেরুদ-ের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট করে মেরুদ- শক্ত করে ফেলে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি মেরুদ-ের ঘাড় ও কোমরের অংশ ঘোরাতে পারে না। সামনের দিকে ঝুঁকতেও পারে না।

চিকিৎসা ও করণীয় : বাতজ্বর ও বাতরোগের চিকিৎসা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই প্রথমেই রোগ নির্ণয় করে নেওয়া জরুরি। চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ওপর। তাই উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ থাকুন।