ঢাকামঙ্গলবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মানুষের গোঁফ দিয়ে স্যুট তৈরি, ইসলাম কী বলে

অনলাইন ডেস্ক
নভেম্বর ২৫, ২০২১ ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মানুষের গোঁফ দিয়ে তৈরি বিশ্বের প্রথম স্যুট তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়ান ম্যান’স পোশাক ব্র্যান্ড ‘পলিটিক্স’। ভিজ্যুয়াল শিল্পী পামেলা ক্লিম্যান-পাসি এই ব্র্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন। এই স্যুটের কাপড় তৈরি করা হয়েছে তুলো দিয়ে। এর পর পাতলা কাপড়ের ওপর বসানো হয়েছে গোঁফ। শরীরে লাগলে যেন না চুলকায় এ জন্যই তুলোর ব্যবহার করা হয়েছে।


বাংলালাইভের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন


জানা গেছে, ‘মুভেম্বর’ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমধর্মী স্যুট তৈরি করেছে তারা। মুভেম্বর হলো, প্রস্টেট ক্যানসার, টেস্টিকুলার ক্যানসার, আত্মহত্যাসহ পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আন্তর্জাতিক এক বার্ষিক অনুষ্ঠান। মুভেম্বর ফাউন্ডেশন কর্তৃক এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় প্রতিবছর।

তাদের দেখাদেখি অনেক মুসলিমও হয়তো এমন উদ্ভট উদ্যোগ নিয়ে বসতে পারে। তাই এভাবে মানবঅঙ্গ দিয়ে পোশাক তৈরি করা ইসলাম সমর্থন করে কি না, সে ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত।

চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি মানব অঙ্গের অংশ। এগুলো কাটার পর তা দাফন করে ফেলা সুন্নত। মহানবী (সা.) তাঁর নখ, চুল ইত্যাদি কাটলে তা দাফন করে ফেলতেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি হিজামা করালেও তাঁর রক্তগুলো দাফন করে ফেলার আদেশ দিতেন। মহান আল্লাহ মানুষকে সম্মানিত করে সৃষ্টি করেছেন, তাদের অঙ্গগুলোও সম্মানিত। তাই তাদের অঙ্গের সঙ্গেও এমন ব্যবহার করা যাবে না, যা তাদের সম্মান হানি করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর আমি মানব সন্তানকে সম্মানিত করেছি…।’ (সুরা : বনী ইসরাঈল, আয়াত : ৭০)

ইমাম আহমদ (রহ.)-কে এক ব্যক্তি কর্তিত চুল ও নখের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘এগুলো কি দাফন করব, নাকি ফেলে দেব?’ তিনি বলেন, ‘দাফন করে ফেলো।’ লোকটি বলল, ‘আপনি এ ব্যাপারে কিছু পেয়েছেন?’ তিনি বলেন, ‘ইবনে ওমর (রা.) এগুলো দাফন করে ফেলতেন।’ (আল মুগনি, ইবনে কুদামা : ১/১১০)

অনেকে না জেনে কেটে রাখা চুল বিক্রি করে দেন, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। কারণ মানব অঙ্গ বিক্রি করা শরিয়তে জায়েজ নেই। সাধারণত এই চুলগুলো বিদেশে বিক্রি হয়ে যায়। এগুলো দিয়ে সাধারণত পরচুলা, এক্সটেনশনে পরিণত করা হয়। উন্নত বিশ্বে এসবের অনেক দাম।

এর চেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, মানুষের চুল থেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বানানো হচ্ছে হীরা। চুল থেকে কার্বন কণাকে বের করে নিয়ে তা দিয়ে হীরা তৈরি হয়। এ পদ্ধতিতে হীরা তৈরির জন্য পশ্চিমা বিশ্বে অনেক কম্পানি গড়ে উঠেছে। তারা এ ব্যবসায় করে উপার্জন করছে কোটি কোটি ডলার। কিন্তু এটিও মানব অঙ্গের সম্মানহানি করে। কারণ মানব অঙ্গকে অলংকার হিসেবে ব্যবহার করাও তার সম্মানহানি করে। যেখানে মানুষের চুল দিয়ে হীরার মতো দামি জিনিস বানানোও মানব অঙ্গের সম্মানহানি করে সেখানে পোশাক বানানো জায়েজ হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।

তা ছাড়া হাদিসের ভাষ্যমতে মানুষের রুহ কবজ করার সময় তার জন্য আসমান থেকে ফেরেশতা নাজিল হয়, যারা মুমিন তাদের জন্য সূর্যের মতো উজ্জ্বল চেহারার ফেরেশতারা জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি নিয়ে হাজির হবে। আর যারা অবিশ্বাসী পাপী, তাদের বিদ্ঘুটে চেহারার ফেরেশতারা চুলের তৈরি কষ্টদায়ক কাফন নিয়ে উপস্থিত হবে। (মুসনদে আহমদ, হাদিস : ১৮৫৩৪)। তাই কোনো মুসলমান চুল-গোঁফ ইত্যাদির তৈরি পোশাককে সমর্থন করাই উচিত নয়।

তাই আমাদের উচিত কেটে ফেলা চুল, গোঁফ ইত্যাদির যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা। এগুলো সংরক্ষণের সঠিক স্থান কী হবে, সে ব্যাপারে ইঙ্গিত রয়েছে পবিত্র কোরআনেই। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি কি পৃথিবী সৃষ্টি করিনি ধারণকারিণীরূপে, জীবিত ও মৃতদের?’ (সুরা মুরসালাত, আয়াত : ২৫-২৬)

তাফসিরে কুরতবিতে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে এই আয়াতের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা ও মানুষের চুল ও পড়ে যাওয়া অঙ্গ দাফন করার বিধান প্রমাণিত হয়। অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এই মাটি থেকেই আমি তোমাদের সৃজন করেছি, এতেই তোমাদের ফিরিয়ে দেব, এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদের উত্থিত করব। (সুরা ত্বহা, আয়াত : ৫৫)

তাই যেভাবে মানুষের গোটা দেহের হায়াত শেষ হয়ে যাওয়ার পর মাটিতে সমর্পিত করতে হয়, তেমনি তার কোনো অঙ্গের হায়াত শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা মাটিতে দাফন করতে হয়।

মহান আল্লাহ আমাদের বিষয়টি উপলব্ধি করে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।