চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসা নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরে আহত সিফাতুন নুর (২২) নামের তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। টানা নয় দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের কন্যা সিফাতুনের সঙ্গে প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়ার পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। স্বামী প্রবাসে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি খাবার নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ আশানুরূপ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কটূক্তি শুরু করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির জেরে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম তাঁর মাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় সিফাতুন মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রাশেদা বেগম ও সুমি আক্তার নামের অপর দুই নারী তাঁর চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে উপর্যুপরি মারধর করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
ওই রাতেই সিফাতুনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক রূপ নিলে তাঁকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তাঁর মৃত্যু ঘটে। নিহতের বাবার দাবি, মারধরের ঘটনা গোপন করে দায় এড়াতে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রচার চালিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত পক্ষ।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, মারধরের ঘটনায় আগেই একটি লিখিত অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।