ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ , ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনআইডি সংশোধনে ইসির বড় অগ্রগতি

অনলাইন ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
এনআইডি সংশোধনে ইসির বড় অগ্রগতি
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন।

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে নতুন করে ৮০ থেকে ৯০ হাজার আবেদন জমা পড়ায় কিছু আবেদন অপেক্ষমাণ থাকছে।

আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়াতে সময়সীমা নির্ধারণ, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে তদারকি জোরদার করেছে কমিশন। একই সঙ্গে অযৌক্তিক আবেদন বাছাই ও এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন। ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ ৯৮৩টি আবেদনসহ এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ২৫২টিতে।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে, ঢাকা অঞ্চলে ১০ হাজার ৬১৫টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি, সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি এবং বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আবেদন নিষ্পত্তিতে নির্ভুলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অযৌক্তিক আবেদন যাচাই করে বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।

জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি। গত ১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, এসব সনদের ভিত্তিতে সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কাজ পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বয়স সংশোধনের কিছু আবেদনে বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর দেখা যায়। আবার সংশোধনের পর কারও ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম হয়ে যায়। এসব অসংগতির কারণে আবেদন বাতিল করা হয়। একটি ক্যাটাগরিতে আবেদন বাতিল হওয়ার পর অন্য ক্যাটাগরিতে পুনরায় আবেদন করার প্রবণতাও রয়েছে।

এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জালিয়াতি প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি নিবন্ধনের শুরুতেই তথ্য যাচাই জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন কমবে।


কমেন্ট বক্স