মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে অপরিশোধিত তেলের দর।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফেই প্রায় ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার অতিক্রম করে। চলতি বছরের গত এপ্রিলের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের এমন উচ্চমূল্য আর দেখা যায়নি। যদিও লেনদেনের শেষভাগে দাম কিছুটা কমে ১১৬ ডলারের ওপরে গিয়ে স্থির হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার।
তেলের বাজারের এই অস্থিরতার নেপথ্যে রয়েছে সম্প্রতি তেহরানের দেওয়া এক কড়া বার্তা। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি তাদের ওপর নতুন করে হামলা চালায়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল শোধনাগার, সাবমেরিন ক্যাবল, ডাটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে তারা। এই হুমকির পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু-হু করে বাড়তে থাকে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যৌথভাবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালাতে পারে-এমন জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা জোরদারের খবর। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং আইআরজিসির সাম্প্রতিক অভিযানের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ চরম বাধার মুখে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান