ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজি ঠেকাতে হচ্ছে নতুন আইন: আইজিপি

অনলাইন ডেস্ক
১ ঘন্টা আগে
চাঁদাবাজি ঠেকাতে হচ্ছে নতুন আইন: আইজিপি
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশ যাতে মামলা করতে পারে এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে, সে লক্ষ্যেই আইনটি তৈরি করা হচ্ছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে নতুন আইন হতে পারে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশের কার্যক্রমের কারণে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই জনআস্থা পুনরুদ্ধার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই তিনি খুলনায় এসেছেন।

তিনি বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি দমনে যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কমিউনিটি পুলিশিংও এখন থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপি বলেন, অপরাধীদের মধ্যে কেউ খুন হচ্ছে, আবার কেউ খুন করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ বল প্রয়োগ করলে এক ধরনের সমালোচনা হয়, আবার বল প্রয়োগ না করলেও পুলিশকে দুর্বল বলা হয়।

তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি এড়িয়ে পুলিশ ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা জরুরি। মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছিল। বর্তমানে সব জায়গায় পুলিশি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশের জনসংখ্যা, বেকারত্বসহ বিভিন্ন সমস্যা এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি পুলিশকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ মানবিক ও জনবান্ধব হতে চায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পরও তারা আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপরাধীদের নির্মূলে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য ও অভিযোগের অভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন আইজিপি। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে অনেক সময় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকে। তাদের ভয়ে অনেকে সাক্ষ্য দিতে বা অভিযোগ করতে চান না।

আলী হোসেন ফকির বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেছেন। নতুন আইনের মাধ্যমে পুলিশ যাতে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করতে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


কমেন্ট বক্স