ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজ বাড়িতেই সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন

অনলাইন ডেস্ক
৩ ঘন্টা আগে
নিজ বাড়িতেই সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন
পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে প্রশাসনের সহায়তায় শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে আত্মগোপনে থাকার পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর শনিবার দুপুরে তার মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে আসা হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য মরদেহ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে সেখানে স্থানীয়রা জড়ো হন। পরে মরদেহ দাফন ও গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে স্থানীয়রা বাঁধার সৃষ্টি করেন।

এ সময় পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয়। সেখানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, উৎসুক জনতার বাঁধার আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। রাত ১টা পর্যন্ত মরদেহটি পুলিশ লাইন্সে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে প্রশাসনের সহায়তায় লাশ দাফন করা হয়।

মানিক পশারীর মেয়ের জামাই ফারুক হোসেন জানান, দুপুর ১২টার দিকে তারা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। দীর্ঘ সময় সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ রাখার পর গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে উৎসুক জনতার বাঁধার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরে ১টা পর্যন্ত পুলিশ লাইন্সে পুলিশের হেফাজতে লাশ রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে লাশ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়।

মানিক পশারীর বোন মোছাম্মৎ রিনা আক্তার বলেন, “আমার ভাই মারা গেছেন। প্রথমে আমরা তাকে দাফনের জন্য নিয়ে আসি। কিন্তু দাফন করতে না পারায় আমরা বিপাকে পড়ি। এখন পুলিশের সহায়তায় দাফন করতে পেরেছি।”

‎পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, রাত ১টার দিকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে নিজ বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।

‎উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন মানিক পশারী। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।


কমেন্ট বক্স