ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভবন বানাতে ৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা চায় শিশু একাডেমি

অনলাইন ডেস্ক
৩ ঘন্টা আগে
ভবন বানাতে ৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা চায় শিশু একাডেমি
দেশের ৬৪ জেলায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমির জেলা কার্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৫৭টি জেলা কার্যালয় ভবন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হবে।

প্রতিটি ভবনের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। পাশাপাশি আরও ৭টি জেলা কার্যালয় ভবন সংস্কার ও মেরামত করা হবে। পুরো অর্থই সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পের সার-সংক্ষেপ অনুযায়ী, ৫৭টি জেলা কার্যালয় ভবন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণে ৩ হাজার ৪২০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি ভবনের জন্য গড়ে ৬০ কোটি টাকা করে ব্যয় ধরা হয়েছে। এর বাইরে ৭টি পুরনো ভবন সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৩৫ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় শুধু প্রশাসনিক কার্যালয় নির্মাণ করা হবে না। শিশুদের সাংস্কৃতিক, সৃজনশীল, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এসব ভবনে বিভিন্ন সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে নান্দনিক মিলনায়তন, প্রশিক্ষণ কক্ষ, গ্রন্থাগার কক্ষ, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং শিশু বিকাশ ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কক্ষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ক্রয় ও উন্নয়নও প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ১৮ দশমিক ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ বা ক্রয় ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে প্রায় ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম এনপিবি নিউজকে বলেন, জেলা পর্যায়ে যেসব কার্যালয়ে বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, সেগুলোর অধিকাংশই ভাড়া নেওয়া। অধিকাংশ ভবনই পুরনো ও জীর্ণশীর্ণ। সেখানে সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় না। শিশুদের আকৃষ্ট করতেই এই প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এই পুরনো, জীর্ণশীর্ণ ভবনে অনেকেই আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। সামনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাবনাও রয়েছে। আমরা তার আলোকে প্রকল্পের প্রস্তাব করেছি। আমাদের জনবল কাঠামো বাড়ানোর জন্যও একটি প্রস্তাব তৈরি হচ্ছে। তারই আলোকে জেলা পর্যায়ে কার্যালয় নির্মাণের জন্য এই প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।”

মহাপরিচালক আরও বলেন, “পরিকল্পনা কমিশন যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছি।”

প্রকল্পের সাধারণ লক্ষ্য হিসেবে শিশুদের বিকাশ, সামাজিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, নির্যাতন প্রতিরোধ ও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে শিশু একাডেমির কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চা, সৃজনশীলতা, প্রতিভা বিকাশ এবং সামাজিক সহায়তা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরির কথা রয়েছে।

প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমির জেলা কার্যালয় ভবন নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, সংস্কার ও মেরামত, নান্দনিক মিলনায়তন নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ ও গ্রন্থাগার কক্ষসহ স্থাপনা তৈরি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র ও শিশু বিকাশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কক্ষ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও শিশুবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, প্রতিভা বিকাশ ও সামাজিক সহায়তা বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরদার হবে। একই সঙ্গে সরকারি শিশু-সেবা অবকাঠামোর সমতা বৃদ্ধি এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০২৬-৩১ মেয়াদের সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রকল্পটি সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি পাঁচ বছরে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার শিশু একাডেমির অবকাঠামো নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগের আওতায় নতুন ও পুনর্নির্মাণ করা ভবনের পাশাপাশি শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চা, প্রশিক্ষণ, পাঠাভ্যাস, দিবাযত্ন ও বিকাশ কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।


কমেন্ট বক্স