এনাম মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম হৃদয়ের বিরুদ্ধে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফ মোহাম্মদ এনাম কে হুমকি, অর্থ আদায়ের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে নানা ধরনের হয়রানি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, অবৈধভাবে অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এমনকি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
সাইমুন ইসলাম হৃদয় ইএম-১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।তার বিরুদ্ধে ২০২২ সালে এনাম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার একটি নথিও এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ওই নথি অনুযায়ী ২০২২ সালের ৮ এপ্রিল ক্যান্সার ভবনে ইএম-১৭ ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী কবিতা দেবকতা (রোল-১২০) ও বিকাশ ভান্ডারি (রোল-৯৭)-কে হয়রানি এবং পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোস্টেলে শিক্ষার্থীদের মারপিট করেন। এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ও সুপারিশ একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা পর্যালোচনা করে সাইমুন ইসলাম হৃদয়কে দোষী সাব্যস্ত করেন বলে কলেজের ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে একাডেমিক কাউন্সিল তাকে ছয় মাসের জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ থেকে বহিষ্কার এবং তার হোস্টেলের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথাও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও ২০২৩ সালের ২৬ আগষ্ট সাইমুন ইসলাম হৃদয়কে এক বছরের জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ থেকে বহিস্কার করে কর্তৃপক্ষ।
নাসিম মাহমুদ নামের এক শিক্ষার্থীকে (ইএম-১৬. রোল-০৭) কে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ও সুপারিশে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ থেকে বহিস্কার, পাশাপাশি হোস্টেলের সীট বাতিল ও তাকে মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে মেডিকেল পরীক্ষায় ফিট প্রমাণিত হয়ে বহিষ্কারাদেশের মেয়াদ শেষে পুনরায় ভর্তির আবেদন করতে বলা হয়।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফ মোহাম্মদ এনামের দাবি, সাইমুন ইসলাম হৃদয় তার সহপাঠী ছিলেন। নানা অপকর্মের কারণে তাকে দফায় দফায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার এবং নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এনাম মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ডা. এনামুর রহমানের বিরুদ্ধে বিষোদগার এবং নানা রকম অপপ্রচার চালান।
সেই ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সাইমুন ইসলাম হৃদয় আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নানা সুবিধা ও অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। এতে সাড়া না দেওয়ায় বিভিন্নভাবে তিনি হয়রানি এবং সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, সাইমুন ইসলাম হৃদয় নিজেকে মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। অথচ এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং এখানে রাজনীতি করার কোন সুযোগ নেই।
এ ছাড়াও সাইমুন ইসলাম হৃদয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাদকসেবনের নানা চিত্র ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল বলেও অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফ মোহাম্মদ এনাম বলেন, সাইমুন ইসলাম হৃদয় নিজেকে মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে গত ২৯ অক্টোবর রাতে সাভার মডেল থানায় আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ পেশ করেন।
ওই অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে সাভার থানা রোডের বিসমিল্লাহ টাওয়ার এর সামনের রাস্তায় একা পেয়ে তার পথরোধ করে বিএনপির রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে নাকি আমি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করি এবং কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাথারিভাবে চরথাপ্পর মেরে নিলাফোলা জখম করি এবং সময় সুযোগমত পেলে নাকি তাকে প্রাণে হত্যা করে লাশ গুম করবো মর্মে ভয়ভীতিসহ নানান হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাই।
প্রকৃত ঘটনা হলো, বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে সত্যের কোন লেশমাত্র নেই। ঘটনার সময় হৃদয় সঙ্গে একই ব্যাচের আনজাল কুমার নামে একজন সাবেক শিক্ষার্থী ও উপস্থিত ছিলেন।
তাকে জিজ্ঞাসা করলেই ঘটনার প্রকৃত বিষয় জানা যাবে এছাড়াও আশেপাশের দোকানদার প্রত্যক্ষদর্শী এমনকি আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করলেই ঘটনাটি যে মিথ্যায় এবং সাজানো তা প্রমাণিত হবে।
ডা. সাইফ মোহাম্মদ এনাম বলেন, যার অপরাধের বিভিন্ন অতীত ইতিহাস রয়েছে তার পক্ষে এমন মিথ্যা বানোয়াট মানহানিকর এবং কাল্পনিক অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ প্রধান এবং সেটা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ছড়ানো নিঃসন্দেহে দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত সাইমুন ইসলাম হৃদয়ের মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
মাদক সেবন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মারপিটের মত নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন দুষ্কৃতিকারীর বক্তব্য যথাযথভাবে যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন ডা. সাইফ মোহাম্মদ এনাম।
কমেন্ট বক্স