ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় পেল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় পেল বাংলাদেশ
বাংলাদেশের জন্য এই মেয়াদ বৃদ্ধি রপ্তানিমুখী শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে; কারণ এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য বড় ঝুঁকিতে ছিল এই খাত।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণের নতুন সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে।

গতকাল গৃহীত এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের পক্ষে উরুগুয়ের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। এই সময়বৃদ্ধির ফলে কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে বাংলাদেশ।

সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে এলডিসি বিভাগ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা অতিরিক্ত তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

একই সঙ্গে এতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক সহায়তায় নির্বিঘ্ন উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন এবং প্রতি বছর উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) কাছে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনে নেপালেরও তাদের প্রস্তুতির সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

বাংলাদেশের জন্য এই মেয়াদ বৃদ্ধি রপ্তানিমুখী শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে; কারণ এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য বড় ঝুঁকিতে ছিল এই খাত।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান টিবিএসকে বলেন, তারা দীর্ঘ দিন ধরেই প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য সুখবর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্ধিত এই সময়কে অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং যেসব দেশের সঙ্গে প্রয়োজন সেখানে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের কাজে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।

অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির বিশেষ ফেলো ফাহমিদা খাতুন জানান, কেবল উত্তরণের সময়সীমা বাড়ালেই অর্থনীতি আরও প্রতিযোগিতাসক্ষম হবে না। তিনি টিবিএসকে বলেন, 'বাণিজ্য, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং ও অবকাঠামো খাতে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।'


কমেন্ট বক্স