ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ , ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একমাত্র জিপিএ-৫, কৃতিত্ব যমজ দুই বোনের

অনলাইন ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একমাত্র জিপিএ-৫, কৃতিত্ব যমজ দুই বোনের
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মাত্র ২ শিক্ষার্থী। তারা ২ জনই যমজ বোন— রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। তাদের এমন সাফল্যে আনন্দিত পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ২ জন। তারা হলেন যমজ ২ বোন রহিমা ও রাবেয়া। এ ছাড়া উপজেলার ৭টি কলেজ, ৩টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৪টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারাই একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

রহিমা ও রাবেয়ার বাড়ি উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জি গ্রামে। তারা রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী।

তাদের বাবা মনির হোসেন সরদার রিজু ও মা নাসিমা বেগম। ৩ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট ২ মেয়ে যমজ রহিমা ও রাবেয়া। বাবা বেকার থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে চলছে তাদের সংসার। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে মা-বাবাকে। তবে অভাব-অনটন তাদের পড়াশোনার আগ্রহে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

দুই বোনের পড়াশোনায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল ২ বোনের একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি ও ফরম পূরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি উপবৃত্তিও পেয়েছেন তারা।

রহিমা ও রাবেয়ার মা নাসিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী বেকার। অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল স্যার ২ বোনের মধ্যে একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ স্যার ভর্তি, ফরম পূরণসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে নামমাত্র টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া তারা উপবৃত্তিও পেয়েছে। সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো আমার মেয়েদের পক্ষে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না।

বাবা মনির হোসেন সরদার রিজু বলেন, আমি একজন বেকার মানুষ। অভাব-অনটনে সংসার চলছে। মেয়েদের ঠিকমতো লেখাপড়ার খরচ ও ভালো খাবার দিতে পারিনি। আজ তারা ভালো ফল করেছে, আমি খুব খুশি। সবাই আমার মেয়েদের জন্য দোয়া করবেন, তারা যেন ভালো চাকরি করে মানুষের জন্য কাজ করতে পারে।

প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন বলেন, রহিমা ও রাবেয়া ২ বোন খুবই মেধাবী ছাত্রী। তাদের বাবার পক্ষে ভালো কোনো জায়গায় পড়াশোনা করানো সম্ভব ছিল না। পরে আমরা তাদের বিনা টাকায় প্রাইভেট পড়াই। তারা আজ জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমরা গর্বিত।

শিক্ষার্থী রহিমা ও রাবেয়া জানায়, বাবার কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে ভালো ফলের লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি। কলেজে যাতায়াত ও খাওয়া-দাওয়ার সময়টুকু বাদে প্রায় সব সময়ই পড়াশোনা করতাম। ঘুমও হতো খুব সীমিত। এখন আমাদের স্বপ্ন, ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ বিষয়ে রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেন, রাজারহাট উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই যমজ ২ বোনই মানবিক শাখা থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তাদের এ অসাধারণ সাফল্যে আমরা আনন্দিত। দোয়া করি, তারা যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হন।

তিনি আরও বলেন, কলেজের পক্ষ থেকে দুজনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।



কমেন্ট বক্স