ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ , ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এডিটেড ভিডিও ছড়িয়ে নারী সাংবাদিককে হেয় করার অভিযোগে মামলা

অনলাইন ডেস্ক
১ ঘন্টা আগে
এডিটেড ভিডিও ছড়িয়ে নারী সাংবাদিককে হেয় করার অভিযোগে মামলা
দৈনিক গণকণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার আয়েশা আক্তার জেসিকাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও এডিটেড ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে ঘটা তিনটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে একত্র করে অসৎ উদ্দেশ্যে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। এই ঘটনার বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সংগঠন গুলো । একইসঙ্গে ঘটনাটির আইনি প্রতিকার চেয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আয়েশা আক্তার জেসিকা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথাকথিত 'হানিট্র্যাপ' বা অনৈতিক ঘটনার কথা বলে যে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে, তা মূলত তিনটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের সংকলন। প্রথমত, বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতের অভিযুক্ত এক ব্যক্তি পলাতক থাকার পর তাঁর সন্ধান পাওয়ায় তাঁকে অফিসে এনে পাওনা টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ছড়ানো ভিডিওতে অভিযুক্তকে 'টাকা পাবেন' বা 'থানায় নিয়ে যান' বলতে শোনা গেলেও সেটিকে অপব্যাখ্যা করে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা  হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মদিনাবাগ আপন বাজার এলাকার মানিক মিয়ার বাড়ির নিচতলায় জেসিকার কার্যালয়ে একাধিকবার মোটরের পানি ঢুকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার কার্পেট নষ্ট হওয়ায় বাড়ির দারোয়ানের স্ত্রীর সঙ্গে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নারী সাংবাদিক জানান, এছাড়া অফিসের এক নারী কর্মী কিছু মালামাল চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর স্বামী চুরি যাওয়া জিনিসপত্র ফিরিয়ে দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করার স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ ঘটনাকেও অনৈতিক রূপ দিয়ে অপপ্রচারে ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ করেন এই সাংবাদিক।

আয়েশা আক্তার জেসিকা বলেন, নিউজের সত্যতা যাচাই না করে এবং কোনো বক্তব্য না নিয়ে কেবল ভিউ ব্যবসার জন্য একটি হলুদ সাংবাদিক চক্র তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছে। ক্যাপশনের সঙ্গে ভিডিওর মিল না রেখে প্রচারিত এসব কর্মকাণ্ড সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে না। 

তিনি বলেন, কলম যখন সত্যের বদলে স্বার্থের পক্ষে কথা বলে, তখন তা আর সাংবাদিকতা থাকে না, হয়ে যায় অপরাধ। একসময় যারা আমার অফিসে এসে খাওয়া-দাওয়া ও জন্মদিন পালন করেছেন, তারাই আজ ব্যক্তিগত স্বার্থে অপপ্রচারে মেতেছেন।

আয়েশা আক্তার জেসিকা আরও বলেন, গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে দেশের আইন, পেশাদার সাংবাদিক সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সঠিক সত্যতা প্রকাশের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছিচ অপরাধ করে থাকলে আইনের বিচার মাথা পেতে নিব, তবে সাংবাদিকতার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যারা আমার ওপর সামাজিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

এদিকে প্রথম সারির একটি জাতীয় পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিককে নিয়ে এমন অপপ্রচারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ সাংবাদিক সমাজ। গণমাধ্যম সতর্ক না থাকলে নিপীড়ক ভালো মানুষ আর নিপীড়িত অপরাধী হিসেবে উপস্থাপিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে মনে করছেন  সাংবাদিকরা। তারা জানান,  এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে ।





কমেন্ট বক্স