ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ , ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারে প্রসূতি ক্লিনিক ও স্কুলে ভয়াবহ বিমান হামলা, নবজাতকসহ নিহত ১৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
মিয়ানমারে প্রসূতি ক্লিনিক ও স্কুলে ভয়াবহ বিমান হামলা, নবজাতকসহ নিহত ১৫
মিয়ানমারে সামরিক জান্তা সরকারের ভয়াবহ বিমান হামলায় এক নবজাতকসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দেশটির একটি প্রসূতি ক্লিনিক ও একটি বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি স্থানে এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ। 

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সশস্ত্র গোষ্ঠী, স্থানীয় ত্রাণকর্মী এবং মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

বিগত কয়েক বছরে হাতছাড়া হয়ে যাওয়া ভূখণ্ডগুলো বিরোধী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করতে সামরিক বাহিনী যখন অভিযান জোরদার করেছে, ঠিক তখনই এই রক্তক্ষয়ী বিমান হামলার ঘটনা ঘটল।

স্থানীয় ত্রাণকর্মী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র সূত্র মতে, রবিবার রাখাইন রাজ্যের চারটি শহরে বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। এর মধ্যে ম্রাউক-ইউ শহরে পরিচালিত একটি অস্থায়ী ক্লিনিক ও প্রসূতি ওয়ার্ডে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে এক সপ্তাহ বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে, যে তার যমজ বোনের সঙ্গে পরদিনই বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বোমার আঘাতে ক্লিনিকটির ভবন ধসে পড়ে সে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায়। এই হামলায় চারজন স্বাস্থ্যকর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া কিয়াকতাও অঞ্চলের একটি সেতু এবং কিয়াকপিউ ও পাউকতাও এলাকাতেও গোলাবর্ষণ ও বোমা ফেলা হয়।

রাখাইনের ঘটনার ঠিক আগের দিন থাইল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন কায়াহ রাজ্যের লইকাও অঞ্চলের একটি স্কুলেও বিমান হামলা চালানো হয়। কারেনি হিউম্যান রাইটস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, পাঠদান চলাকালীন জান্তা বাহিনীর একটি ওয়াই-১২ পরিবহন বিমান এবং একটি যুদ্ধবিমান থেকে স্কুলটিতে ২০টিরও বেশি বোমা ফেলা হয়। এতে তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়। কারেনি ইন্টেরিম এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় কোনো সামরিক তৎপরতা বা সংঘর্ষ ছিল না। কোমলমতি শিশুদের স্কুলে এভাবে বারবার বোমা হামলা চালানোকে মানবতাবিরোধী এবং স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা ছড়িয়ে পড়ায় থাইল্যান্ড সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিমান হামলায় থাই ভূখণ্ডের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং অন্তত একজন নাগরিক আহত হওয়ার পর থাই বিমানবাহিনী সীমান্তে টহল জোরদার করেছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জান্তা সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে পরিস্থিতি থাইল্যান্ডের সীমানায় প্রভাব না ফেলে।

২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে চরম গৃহযুদ্ধে শুরু হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতে এ পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং গৃহহীন হয়েছেন ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষ। যদিও চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো দেশের সমর্থন পেয়ে আসা সামরিক বাহিনী সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, তবে স্থলভাগে বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন ব্যাপকভাবে আকাশপথে সামরিক হামলা ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছে।





কমেন্ট বক্স