দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী সহিদ শেখ (৩০) । মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে স্থানীয় দুজন সাংবাদিককে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
শনিবার (২৪ আগষ্ট) ঘোড়াঘাট থানায় মামলাটি করেন পৌর ছাত্রদলের কর্মী সহিদ শেখ (৩০) । ভূক্তভোগী ওই দুই সাংবাদিক হলেন - সময় টিভির সাবেক ভিডিও জার্নালিষ্ট ও বাংলালাইভ টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি লোটাস আহম্মেদ এবং অপরজন হলেন দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি কাজী নাসির হিরু। তাদের দাবি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে । মামলার অধিকাংশ আসামী স্থানীয় আওয়ামীলীগ এবং এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। এছাড়াও রয়েছেন জনপ্রতিনিধি ও স্কুল শিক্ষক সহ ব্যবসায়ীর নাম।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৪ আগষ্ট সারা দেশের ন্যায় ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলন করছিলেন কোটা বৈষম্যবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ওইদিন বিকেল ৪টার সময় এজাহারভূক্ত আসামীরা সহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা রড, লাঠি, পেট্রোল বোমা, ধারালো চাকু, হাসুয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের পথরোধ করে হামলা করে। পরে আসামীরা দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন যানবাহন ভাংচুর করে এবং মহাসড়কের পাশে মাসুদ রানার মালিকানাধীন মোটরসাইকেল মেকারের দোকানে ভাংচুর করে এবং আগুন লাগিয়ে দিলে দোকানটি আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
তবে রবিবার সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মামলার এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী মোটরসাইকেল মেকার মাসুদের দোকানে কোন হামলা বা অগ্নিসংযোগ হয়নি। দোকানটিতে যথারীতি কার্যক্রম চলছে। সেখানে ৩-৪ কর্মচারী মোটরসাইকেল সার্ভিসিং করছে। স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারাও জানান এ ধরণের কোন ঘটনা তারা দেখেননি। কিংবা ৪ আগষ্ট কোন হামলা কিংবা অগ্নিসংযোগ হয়নি। তবে ৫ আগষ্ট সরকার পতনের খবরে দুপুরের পর থেকে পুরো পৌর এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর চালায় কতিপয় দূবৃত্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাশ্ববর্তী আরেক মোটরসাইকেল সার্ভিসিং দোকানের মালিক বলেন, মাসুদের দোকান ঠিক আছে। তার দোকানে কোন হামলা, ভাংচুর কিংবা অগ্নিসংযোগ হয়নি। সে তো নিয়মিত ব্যবসা করে খাচ্ছে।
ভূক্তভোগী সাংবাদিক লোটাস আহম্মেদ বলেন, ঘটনার দিন অর্থাৎ ৪ আগষ্ট দুপুর থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত আমি রাণীগঞ্জ বাজারে ছিলাম। সেখানে কোটা বৈশম্যবিরোধী বিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করছিলাম। আন্দোলনে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার স্বাক্ষী। তবে আমাকে কেন মামলায় জড়ালো তা আমার বোধগম্য নয়।
ভূক্তভোগী আরেক সাংবাদিক কাজী নাসির হিরু বলেন, ঘটনার দিন আমি আমার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। আজ (রবিবার) জানতে পারলাম আমার বিরুদ্ধে বিএনপির লোকজন ভাংচুর ও হামলার মামলা করেছে। মামলার পুরো ঘটনাটি মিথ্যা ও বানোয়াট।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনকে মারধর, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমেন্ট বক্স