ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রভাব এবার মার্কিন রাজনীতির অভ্যন্তরেও পড়েছে—এমনই দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে আরও একবার ধাক্কা দিয়েছে ইরান। যুদ্ধক্ষেত্র ও হরমুজ প্রণালির পর এবার ওয়াশিংটনের রাজনীতিতেও ট্রাম্পকে পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ি বলেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরাজয়। ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরিণতি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সংশ্লিষ্টদের নিজেদের দেশেও ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রেজায়ি লেখেন, ‘যে-ই ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তাকে এর মূল্য দিতে হবে—যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে নিজের ঘরের দোরগোড়া পর্যন্ত।’
ইরানের এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী যুদ্ধনীতির ব্যর্থতার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল। তাঁর ভাষ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধের বিপুল ব্যয় বহন করতে হচ্ছে মার্কিন করদাতাদের।
রেজায়ির দাবি, যুদ্ধক্ষেত্র ও হরমুজ প্রণালিতে কৌশলগতভাবে ট্রাম্পকে পরাজিত করার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাঁকে বড় ধাক্কা দিয়েছে ইরান। তিনি বলেন, ‘ইরানি জাতি যুদ্ধক্ষেত্রে এবং হরমুজ প্রণালিতে ট্রাম্পকে কৌশলগত পরাজয় উপহার দিয়েছে, আর ওয়াশিংটনে দিয়েছে রাজনৈতিক পরাজয়। অন্যদিকে, মার্কিন জনগণকে তাঁর যুদ্ধের ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।’
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর রেজায়ি এসব মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় প্রভাবিত হয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরোধিতা করা বেশ কয়েকজন প্রার্থী মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ এমন সব অঙ্গরাজ্যেও বিজয়ী হয়েছেন, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচনের এই ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়লে মেয়াদের বাকি সময়ে ইরানবিষয়ক নীতি বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়তে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল তাঁর প্রশাসনের অবশিষ্ট সময়ের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে। পার্সটুডে