যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে ভৌগোলিক সীমানার তোয়াক্কা না করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সব মার্কিন সম্পদে আক্রমণ চালানোর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করলে দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার অবসান ও সম্ভাব্য চুক্তির পথ সুগম হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক কড়া বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যদি নতুন করে কোনো আক্রমণ বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়, তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের পক্ষ থেকে যে সাতটি শর্ত দেওয়া হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নিলেই কেবল এই সামুদ্রিক পথটি পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আমাদের শত্রুর (যুক্তরাষ্ট্র) দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরেও ঘাঁটি রয়েছে এবং সেখানে তাদের সরঞ্জাম ও বাহিনী মোতায়েন আছে। যদি ইরানে হামলা হয়, তবে সশস্ত্র বাহিনী ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা না করেই আমেরিকান শত্রুর সব লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে শত্রুর যেকোনো হঠকারিতা বা আগ্রাসনের এমন দ্রুত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তারা অনুতপ্ত হয়।
তবে এর পাশাপাশি সমঝোতার সুরও শোনা গেছে। ইরানের সাবেক কূটনীতিক হাদি আফগাহি আল জাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নমনীয় হয়, তবে তেহরান চুক্তির পথ সহজ করতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সত্যিই যুদ্ধে জড়াতে চান না, কারণ যুদ্ধ তাকে আরও খরচের মুখে ফেলবে।
আফগাহি মনে করেন, কাতারের মাধ্যমে ইরানের পাঠানো প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং রিপাবলিকানদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া নতুন মার্কিন কংগ্রেস দায়িত্ব নিলে যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্পের ওপর ডেমোক্র্যাটদের চাপ প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং সম্প্রতি মস্কো সফরে যুদ্ধ শেষ করতে পুতিনের সহায়তার আশ্বাসকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে তার মতে, ট্রাম্পের আশপাশে থাকা যুদ্ধবাজ উপদেষ্টারা, বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উসকানি পরিস্থিতি জটিল করতে পারে।