ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ , ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনে বিয়েতে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ ঘন্টা আগে
চীনে বিয়েতে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা
বিয়ে করতে আগ্রহ হারাচ্ছে চীনের তরুণ প্রজন্ম! একসময় বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে পরিচিত চীনে এবার বিয়ের হার নেমে এসেছে গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। বিয়ে কমছে, কমছে সন্তান জন্মের হারও। সরকারি আর্থিক প্রণোদনা ও নানা উদ্যোগ নিয়েও তরুণদের বিয়েতে আগ্রহী করতে পারছে না বেইজিং। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সামনে ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে জনসংখ্যা সংকট।

চীনে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশটির বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিয়ের নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৪৬ লাখ ৫০ হাজার দম্পতি। একই সময়ে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে ২০ লাখ ৮০ হাজার দম্পতির।

শুক্রবার চীনের সংবাদমাধ্যম ইয়িকাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ বছরের মধ্যে এই সময়ে বিয়ের সংখ্যা সবচেয়ে কম পর্যায়ে নেমেছে।

চীনের জন্য এই পরিসংখ্যান বিশেষ উদ্বেগের। কারণ দেশটিতে সন্তান জন্মদানের বিষয়টি এখনো বিয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফলে বিয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি জন্মহারের ওপর পড়তে পারে।

বিয়ের হার ও সন্তান জন্মের সংখ্যা বাড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে চীন সরকার। পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া, শিশুযত্নের সুযোগ বাড়ানো এবং সন্তান জন্মদানের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তরুণদের জন্য শহুরে জীবন আরও সহজ ও সহায়ক করতে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নগর পরিকল্পনায় তাঁদের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

তবে এসব উদ্যোগের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনসংকট, সন্তান লালন-পালনের খরচ এবং কর্মজীবনের চাপ তরুণদের বিয়ে ও পরিবার গঠনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

চীনের জনসংখ্যাগত পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। দেশটিতে শিশু ও তরুণদের তুলনায় বয়স্ক মানুষের অনুপাত বাড়ছে। এতে ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়া এবং অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো চীনের মোট জনসংখ্যা কমেছে। একই সময়ে জন্মহারও রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

জাতিসংঘের জনসংখ্যাবিষয়ক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কমে ১০ কোটির নিচে নেমে যেতে পারে।

জনসংখ্যার এই পরিবর্তন শুধু বিয়ে ও সন্তান জন্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে চীনের শ্রমবাজার, পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, বিয়ের হার কমে যাওয়ার নতুন পরিসংখ্যান চীনের দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সরকারি প্রণোদনা কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বেইজিংয়ের সামনে বড় প্রশ্ন। রয়টার্স





কমেন্ট বক্স