পোল্যান্ডের ক্রাকোভ শহরের প্রধান চত্বরে ২৪ বছর বয়সী এক পোলিশ বন্দুকধারীর এআর-১৫ সামরিক রাইফেলের এলোপাতাড়ি গুলিতে নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পোল্যান্ডসহ পুরো ইউরোপে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) পোলিশ কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি থেকে দুই নারী ও এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তাদের মতে, হামলাকারী উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা হামলাকারীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হতে পারেন বলে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সামরিক পোশাক পরা বন্দুকধারী একটি কালো গাড়ি থেকে নামেন এবং ক্যাফে-রেস্তোরাঁয় ঘেরা একটি চত্বরে উপস্থিত পর্যটক ও পথচারীদের লক্ষ্য করে এআর-১৫ সামরিক রাইফেল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দ ও পুলিশের সাইরেন শোনার সাথে সাথে চত্বরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনেকে নিরাপত্তার জন্য কাছের দোকান ও স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে আশ্রয় নেন। সংবাদ পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্দুকধারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আরো বড় গণহত্যা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সিন কিয়েরউইনস্কি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৪ বছর বয়সী ওই অভিযুক্ত যুবকের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। তার গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাড়িটিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র থাকতে পারে এমন শঙ্কায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হয় এবং নিরাপত্তা স্বার্থে আশেপাশের অধিবাসীদের সরিয়ে সন্ত্রাস দমন সংস্থা অভিযান শুরু করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে সব কিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হামলাকারী উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন।
পোল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত করছে।
ঘটনার পর পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি ৮ ও ৯ নভেম্বর দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসসহ বিশ্বনেতারা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সূত্র: এনডিটিভি