ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধসে পড়েছে গাজী টায়ার্সের তিনটি ফ্লোর, এখনও মেলেনি কোনো মরদেহ

নিউজ ডেস্ক
২ বছর আগে
ধসে পড়েছে গাজী টায়ার্সের তিনটি ফ্লোর, এখনও মেলেনি কোনো মরদেহ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজী টায়ার্স কারখানায় আগুন লাগা ভবনটির তিনটি ফ্লোর ধসে পড়েছে। ড্রোন ক্যামেরা ও মই দিয়ে ধসে পড়া ফ্লোরে কোনো মরদেহের আলামত দেখতে পায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।

বুধবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে পুড়ে যাওয়া ভবনটি পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমান একথা বলেন।

তিনি বলেন, “ফায়ার সার্ভিসের ড্রোন ও মই দিয়ে কর্মকর্তারা ভবনে দেখেছেন, কোনও ডেডবডি (মরদেহ) তারা দেখেননি। এছাড়া এখানে অনেক বেশি কেমিকেল পুড়েছে, মরদেহ থেকে থাকলেও ওইভাবে পাওয়ার সম্ভবনা নেই। কারণ টানা ২১-২২ ঘণ্টা টানা আগুন জ্বলেছে। অথচ ৩-৪ ঘণ্টা আগুনে পুড়লে একটা মানুষ পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়ার কথা। সে হিসেবে আমরা এখনও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না ভবনের ভেতরে ঠিক কতগুলো ডেডবডি রয়েছে।”

ভবনের তিনটি ফ্লোর ধসে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা ড্রোন (ক্যামেরা) দিয়ে ভেতরে দেখেছেন ৪, ৫ ও ৬ তলার ফ্লোর ধসে পড়েছে। সেখানে এখনও আগুন রয়েছে। সুতরাং আজ উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব না। ভবনের বিষয়ে টেকনিক্যাল পারসনরা সিদ্ধান্ত দেবেন। তারা ভেতরে প্রবেশ করে অভিযান চালাতে পারবে কি-না। তারা না পারলে ঢাকা থেকে জাতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা এসে কাজ শুরু করবেন।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “কিছু অনুপ্রবেশকারী গত ২৫ আগস্ট এখানে এসেছে। তাদের বেশকিছু লোকজন বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে। রাতে নিচতলায় আগুন দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, “জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির লোকজনদের নিয়ে পরিদর্শনে আসলাম। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, রবিবার রাত সাড়ে ৯টার পর রূপগঞ্জের রূপসীতে গাজী টায়ার্স কারখানায় আগুন লাগে। দীর্ঘ প্রায় ২২ ঘণ্টা পর সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মঙ্গলবার ভোর ৫টায় আগুন নেভানোর কথা জানালেও বিকেল থেকে ফের ভবনটিতে আগুন জ্বলে ওঠে। সন্ধ্যার পর রাতে আগুনের তীব্রতা বাড়ে। এ ঘটনার পর অন্তত ১৭৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, রবিবার বিকেলের পর দুটি গ্রুপে কয়েক শ লোক কারখানায় ঢুকে পড়েন। তাদের বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। লুটপাটের পর রাত ৯টার দিকে কারখানাটির একাধিক ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় লুটপাটকারীরা।

গাজী গ্রুপের মালিক গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। রবিবার ভোররাতে ঢাকার শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি।

গাজী গ্রুপের টায়ার তৈরির কারখানায় কর্মরত শফিকুল ইসলাম জানান, গোলাম দস্তগীর গাজীকে গ্রেপ্তারের পরপরই রূপগঞ্জে বিভিন্ন এলাকা থেকে আনন্দ মিছিল বের হয়। একপর্যায়ে বিকেলে তারা কারখানার ভেতরে ঢুকে শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে গেট আটকে দেয়। এরপরই লুটপাট শুরু করে।

তিনি বলেন, “টায়ার তৈরির জন্য বিভিন্ন কেমিক্যাল, কাঁচামালসহ প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকার মালামাল ছিল ভবনটিতে। লুটপাট শেষে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় লুটপাটকারী কয়েকজন আটকা পড়ে ভবনে ভেতরে। পরে তাদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।”

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “এবারই প্রথম না, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করারা পর ৫ আগস্টও লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। তখন কারখানাটির ৫ থেকে ৬টা শেড পুরোপুরি পুড়ে যায়। এখন আমরা ভবনটির ভেতরে কাজ করছিলাম। সেটাও পুড়িয়ে দিয়েছে। মূলত স্যারের (গোলাম দস্তগীর গাজী) প্রতিপক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য মূলত এ জমি দখল করা।”


কমেন্ট বক্স