শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর এক রোগীর স্বজনেরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় চিকিৎসকসহ কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে জরুরি চিকিৎসা সেবা ছাড়া অন্য সকল সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার তুলাসার এলাকার শারমিন নামে এক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ সময় রোগীর ভর্তি ফাইল নিতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় রোগীর স্বজনেরা। এক পর্যায়ে রোগীর স্বজনেরা চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে এক চিকিৎসকসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসকেরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগী সিনিয়র স্টাফ নার্স সানজিদা বলেন, ‘রোগীর স্বজনেরা নিয়মের বাইরে গিয়ে জোর করে ফাইল নিতে চায়। আমি তাদের বিষয়টি চিকিৎসককে জানাতে বলি। এরপর তারা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।’ হাসপাতালের কর্মচারী দুলাল ঢালী বলেন, ‘আমরা কিছু বোঝার আগেই রোগীর স্বজনেরা বাইরে থেকে লোক এনে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমিও আহত হয়েছি। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।’
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, ‘রোগীর ভর্তি হওয়া নিয়ে আমাদের কর্মচারীদের সঙ্গে একটি তুচ্ছ ঘটনা ঘটে। পরে রোগীর স্বজনেরা বাইরে থেকে লোক নিয়ে আমাদের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়।’ এদিকে, এই ঘটনার পর হাসপাতালে জরুরি সভা করে দোষীদের গ্ৰেপ্তার ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের সেবা ব্যতীত সকল সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন চিকিৎসকেরা।
ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা এখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এই ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালে আপাতত জরুরি চিকিৎসা সেবা ছাড়া অন্য সকল সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। আমরা দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। তারপরও আমরাই হামলার শিকার হচ্ছি। আজ রোগীর স্বজনদের হামলায় চারজন আহত হয়েছে। এই হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’ খবর পেয়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন সেনা সদস্যরা।
কমেন্ট বক্স