ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিকদের ১৮ দফায় মালিকদের সায়, খুলছে সব কারখানা

নিউজ ডেস্ক
২ বছর আগে
শ্রমিকদের ১৮ দফায় মালিকদের সায়, খুলছে সব কারখানা
পোশাক শ্রমিকদের ১৮ দফা দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কারখানা মালিকরা। মঙ্গলবার সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বৈঠকে তারা দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান। এ পরিস্থিতিতে বুধবার থেকে সব বন্ধ কারখানাগুলো চালু হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম সচিব।  

সভা শেষে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কষ্ট হলেও কিছু বিষয়ে এগিয়ে যেতে মালিকরা সম্মত হয়েছেন। আগামীকাল সব কারখানা খুলবে বলে আশা। শ্রমিকদের বলার কিছু থাকলে মালিকদের সাথে কারখানাতেই আলোচনা করুন, রাস্তায় অস্থিরতা তৈরি না করে।’

এ সময় শ্রম সচিব এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন, ‘কাল থেকে সব পোশাক কারখানা খুলবে। দৈনিক হাজিরা বিলের সাথে আরও ২২৫ টাকা করে পাবেন শ্রমিকরা। ন্যূনতম মজুরি কার্যকারিতা নিয়ে বিজিএমইএ কাজ করবে। রেশনিং হিসাবে শ্রমঘন এলাকায় ন্যায্য দামে নিত্যপণ্য বিক্রি হবে। স্থায়ী রেশনিংয়ের ব্যবস্থা হবে। নিম্নতম মজুরিকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো প্রত্যাহার হবে। হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’

শ্রম সচিব বলেন, ‘নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ ও মজুরি দিতে হবে। অভিন্ন তহবিল তৈরি করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সব কারখানায় দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করতেই হবে। অন্যায্যভাবে শ্রমিক ছাঁটাই চলবে না। মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিনে উন্নীত করা হলো। নিম্নতম মজুরি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। শ্রম আইন সংশোধন করা হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে। পোশাক শ্রমিকদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যবস্থা করা হবে। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নিয়েও কাজ চলবে।’

শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবারও আশুলিয়া ও গাজীপুরের ৬৫টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি কারখানাকে শ্রম আইনের অধীনে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, বিশৃঙ্খলায় উসকানির অভিযোগে ৮ জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।

কয়েকদিন ধরেই শ্রমিক অসন্তোষ চলছে গাজীপুরে। এর জেরে শ্রম আইনের অধীনে ১০টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে বাকি কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে, শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তার স্বার্থে আশুলিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ৪৬টি কারখানা। এছাড়া ৯টিতে সাধারণ ছুটি রয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সুযোগ পেলেই যেন অস্থিরতা তৈরি না করা হয়, শ্রমিকদের প্রতি সেই আহ্বান জানাই। যে যার কাজে ফিরে যেতেও আহ্বান জানাই। সরকারকেও কাজ করতে সময় দিতে হবে।’

এ সময় সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের টাস্কফোর্স কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন কাজে ফিরতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মালিকরা যেন কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করেন। এরপরও কেউ বিশৃঙ্খলা করার মানে হলো তারা আসলে নৈরাজ্যই চায়।’

শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমস্যা সমাধান হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সমস্যাগুলোও সমাধান করা হবে। কাল থেকে কাজে ফিরতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানাই। মালিক-শ্রমিক কোনো পক্ষ থেকে অসহযোগিতা থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে বুধবার থেকে পোশাক শিল্প ঘিরে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে সতর্ক করে দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আগামীকালও যদি কোনো বিশৃঙ্খলা হয়, এর জন্য সমঝোতাকারীরা অর্থাৎ শ্রমিক-মালিকরাই দায়ী থাকবেন। সরকার ব্যবস্থা নেবে।’


কমেন্ট বক্স