ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমাকে দেখে কি মনে হয়, আমি নির্বাচনে লড়ার মতো কেউ?’

নিউজ ডেস্ক
২ বছর আগে
‘আমাকে দেখে কি মনে হয়, আমি নির্বাচনে লড়ার মতো কেউ?’
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাতে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নিজের মতামত জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নিউইয়র্কে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস আয়োজিত ‘ক্লাইমেট ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক সম্মেলনে স্থানীয় সময় বুধবার তিনি বলেন, ‘আমাকে দেখে কি মনে হয়, আমি নির্বাচনে লড়ার মতো কেউ?’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ ২৫ মিনিট কথা বলেন তিনি। জাতিসংঘের সাধারন অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সঞ্চালক প্রধান উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করেন, নির্বাচন করার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাকে দেখে কি মনে হয় আমি নির্বাচন করব? আমি নির্বাচন করব না।’

সঞ্চালক তখন তাঁকে আবারও প্রশ্নের ধরনে বলেন, ‘তাহলে আপনার নির্বাচন করার কোনো সম্ভাবনাই নেই?’ ইউনূস বলেন, ‘না, না কোনোভাবেই নয়।’ ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। পতন হয় শেষ হাসিনা সরকারের। এরপর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর দেশে জাতীয় নির্বাচন দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন কবে হবে তা এখনো নিশ্চিত করে জানায়নি সরকার।

তবে, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে জানান, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এসময় সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার ইচ্ছার কথা জানান বাংলাদেশের সেনাপ্রধান। বিরল এই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান বলেন, ‘যাই হোক না কেন আমি তাঁর (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) পাশে আছি। যাতে তিনি তাঁর মিশন সম্পন্ন করতে পারেন।’
 
বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের অগ্রদূত ইউনূস বাংলাদেশে বিচার বিভাগ, পুলিশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পান ওয়াকার-উজ-জামান। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে একটি উত্তরণ এক বছর থেকে দেড় বছরের মধ্যে করা উচিত। এসময় তিনি ধৈর্য ধারণ করার প্রতিও জোর দেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, এর আগে ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক দল গঠনের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর সমর্থনে এবং ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। এর কিছুদিন পর থেকেই ড. ইউনূসের রাজনৈতিক দল গঠনের গুঞ্জন শুরু হয়। ২০০৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূস দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দেন। সে চিঠিতে তিনি নিজের রাজনীতি সম্পর্কে পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন। সে চিঠিতে ড. ইউনূস বলেন, নতুন রাজনীতি সৃষ্টির জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। এটি করতে না পারলে পুরোনো রাজনীতি থেকে পরিষ্কারভাবে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না।

ওই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূস বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, তার দলের সম্ভাব্য নাম নাগরিক শক্তি। কিন্তু রাজনীতিতে আসার জন্য তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে যে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন তার তিনমাসের মধ্যেই সে প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০০৭ সালের ৩ মে অধ্যাপক ইউনূস রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। তখনো তিনি জাতির উদ্দেশ্যে চিঠি প্রকাশ করেন।


কমেন্ট বক্স